নান্দাইলের ৫০টি আনন্দ
স্কুলে নিরানন্দ পাঠদান!
শাহ্ আলম ভুঁইয়া, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৭
উপজেলার ৫০টি আনন্দ স্কুলের প্রায় দেড় হাজার শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরানন্দ পাঠদান চলছে। শিক্ষকের বেতন নেই, শিক্ষার্থীদের বই, পোশাক নেই, নেই উপবৃত্তিও। ফলে সুবিধা বঞ্চিত এসব শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে রিচিং আউট অফ স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে আনন্দ স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। এর জন্য প্রতি স্কুলে একজন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে চারশ’ টাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে আনন্দ স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৮ মাসেও কোন ঘর মালিক ভাড়া পাননি। প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রতিমাসে একশ’ টাকা উপবৃত্তি এবং গণিত, বাংলা, ইংরেজি এই তিনটি পাঠ্য বই, খাতা-কলম বিনামূল্যে সরবরাহের কথা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী এখনো তা পায়নি বলে অভিযোগ উঠছে। কোন কোন শিক্ষার্থী ২/১টি করে বই পেলেও খাতা-কলম পায়নি। বসার জন্য মাদুরের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা এর অভাবে বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে আসে। বিনামূল্যে পোশাক দেয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের মাপজোক নিয়ে অদ্যাবধি তা দেয়া হয়নি। দীর্ঘ ৮ মাস ধরে শিক্ষকতা করেও কোন শিক্ষক এক মাসেরও বেতন পাননি। ফলে ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী চলে গেছে। তাই যে উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার আনন্দ স্কুল চালু করে সেই উদ্দেশ্য এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমদাদুল হক দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্পের কাজ চলছে। গণকল্যাণ পরিষদ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা প্রকল্পটি তদারকি করছে। কিন্তু অর্থ ছাড় না দেয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।