মুশফিক-নাঈমের আফসোস!
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৭
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গতকাল শুরু হওয়া প্রথম ওয়ানডের আগে বড় রকমের আলোচনা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে কারা হবেন প্রথম তিনজন। মানে ওপেনার তামিম ইকবাল ছাড়া পরের দুই ব্যাটসম্যান হবেন কে কে? কিন্তু ম্যাচ শুরু’র সাত ওভারের মধ্যেই বিষয়টি নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হল বাংলাদেশ দল ২৫ রানে তিন উইকেট খোয়ানোয়। কারণ এর মধ্যেই প্রথম তিন ব্যাটসম্যান—তামিম, এনামুল হক বিজয় ও মুমিনুল হক ড্রেসিংরুমে ফেরত চলে এলে আলোচনাটি প্রাসঙ্গিকতা হারায়। ফলে আরেকবার বাংলাওয়াশের স্বপ্ন নিয়ে নামা স্বাগতিকরা তখন পাহাড় সমান চাপে।
বাংলাদেশ যখন এরকম একটা ব্যাটিং বিপর্যয়ে ঠিক সেসময়েই হাল ধরলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাঈম ইসলাম। দুজনে মিলে চতুর্থ উইকেটে গড়লেন ১৫৪ রানের জুটি। বিপদ থেকে উদ্ধারের পাশাপাশি দুজনে দলকে এনে দিলেন বড় রানের ভিত্তি। তাতে শুধু বাংলাদেশের মানই বাঁচলো না দারুণ এক ব্যক্তিগত অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু হল না, সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও ফিরে আসতে হল উভয়কেই। মুশফিক করলেন ৯০ রান, আর নাঈমের পাশে লেখা থাকলো ৮৪।
মুশফিক ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাজে পারফরম্যান্সের জের ধরে সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন। সে বছর ১৩ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই মিরপুরেই অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হওয়ার পর গতকালকের আগ পর্যন্ত মুশফিক খেলেছেন ২০টি ইনিংস। এই সময়ে ৪৫১ রান করেছেন, এর মধ্যে দুটি ফিফটিও ছিল কিন্তু বড় একটা ইনিংস খেলতে পারছিলেন না মুশফিক। এদিন সে পথেই ছিলেন তিনি। দলের প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে গেলেন অধিনায়ক নিজেই। অধিনায়ক হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ রানের পাশাপাশি পেলেন ক্যারিয়ারের দ্বাদশ হাফ সেঞ্চুরি। ৯৮ বলে খেলা ৯০ রানের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও দুটি ছক্কার মার।
নাঈম ইসলামের ইনিংসটা ছিল স্বভাবে একেবারেই মুশফিকের বিপরীত। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সাকিবের বদলি হিসেবে নামার পর এমনিতেই আকাশচুম্বি চাপে ছিলেন তিনি। তার উপর অনেকদিন পর সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণের তাড়না। সব মিলিয়ে চাপ সামলে নিজের প্রথম রান পেতেই ১৬ বল খেলতে হয় তাকে। এরপর সময়ের সাথে সাথে হাসতে থাকে তার ব্যাট। টিম সাউদির বল তুলে মারতে গিয়ে দৃষ্টিকটু ভাবে আউট হলেও নামের পাশে ততক্ষণে লেখা হয়ে গিয়েছে ১১৫ বলে ১২টি চারের মারে ৮৪ রান। মজার ব্যাপার হল ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ছক্কা নাঈম’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যাটসম্যানের ইনিংসে এদিন একটা ছক্কাও ছিল না।
নাঈম সর্বশেষ গত বছরের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দলে ছিলেন । প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও পেয়ে যান তখনই। কিন্তু ভাগ্য সহায় হল না। ইনজুরির কারণে বাদ পড়তে হল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে সফর থেকে। এর পর টিম কম্বিনেশন মিলিয়ে আর জায়গা হচ্ছিল না মূল একাদশে। গতকাল অবশ্য ভাগ্যের কল্যাণেই ফিরলেন এবং প্রত্যাবর্তন পর্বটি স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি। ক্যারিয়ারে চতুর্থ বারের মতো হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া নাঈমের ওয়ানডেতে এটাই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ৮৪ রানের ইনিংস দিয়ে নাঈম ছাড়িয়ে গেলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে করা ‘ঐতিহাসিক’ ৭৩ রানের ইনিংসকে।