এবার বোমায় ঝলসে গেল শিশু রহিমা

অসহায় পরিবারের শিশু রহিমা আক্তার (৯)। জুরাইন বালুর মাঠের পাশে তার পিতা আব্দুস সোবহানের একটি ভাঙ্গারির দোকান রয়েছে। পুরাতন লোহালঙ্কর বিক্রি করে কোনো রকমে পরিবার চালান। শিশু রহিমা প্রতিদিনই বাবার ভাঙ্গারির দোকানে এসে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করে। প্রতিদিনের মতো গতকাল মঙ্গলবারও দোকানের সামনে সহপাঠীদের নিয়ে খেলছিলো রহিমা। ১৮ দলের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতালের তৃতীয় দিন গতকাল কয়েক তরুণের একটি মিছিল ঐ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলো। মিছিল থেকে শিশুদের লক্ষ্য করে পর পর দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। একটি বোমা শিশু রহিমার সামনে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে রহিমার শরীর ক্ষত বিক্ষত হয়ে সে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। মুহূর্তে তার সমস্ত শরীর বোমার স্প্লিন্টারে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। দিন রাত কাজ করে পরিবারের আহার জোগাড় করা যেখানে সোবহানের পক্ষে কষ্টকর সেখানে মেয়ের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করা অসাধ্য হয়ে পড়েছে। বোমায় আহত হওয়ার পর চিকিত্সার জন্য রহিমাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তি করা হয় ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে। তার শয্যা পাশে মা শিমু আক্তার আহজারি করে বলতে থাকেন, আমার মেয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী না। তার বাবা সংসারের ব্যয় বহন করতে গিয়ে দিন রাত কাজ করে। নিরীহ ও অসহায় লোকের মেয়েকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপকারীরা নির্মম-নিষ্ঠুর মানসিকতার লোক। এ সকল হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন রহিমার মা। মেয়ের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতিদিনের আহার যোগাড় করতে যেখানে সোবহানের দিন কেটে যায় এর মধ্যে মেয়ের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব বলে শিমু আক্তার জানান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক রহিমার দেহের ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা দেখে বলেন, এ শিশুর রাজনৈতিক অবস্থা বোঝার বয়স হয়নি। অবুঝ শিশুকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে হামলাকারীরা বর্বরোচিত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। ভাঙ্গারি দোকানকার সোবহানের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে রহিমা তৃতীয়। সে স্থানীয় একটি স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী।