ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে সালাহউদ্দিন কাদেরের আপিল

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি। আবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে মামলা এবং শোনা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে সাজা দেয়া হয়েছে। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২৭টি যুক্তি তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল চেয়ে সালাহউদ্দিন কাদেরকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া মোট ১ হাজার ৩শ’ ২৩ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে আপিলে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দাখিল করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার ৪২ বছর পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যে চারটি অভিযোগে সালাহউদ্দিন কাদেরকে সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়েছে তা শোনা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে। এসব ঘটনার পক্ষে কোন প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। তারপরেও তাকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আইনীভাবে এর কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। তিনি বলেন, যে সব অপরাধে সাজা দেয়া হয়েছে এ অপরাধ সংঘটনের সময় সালাহউদ্দিন কাদের দেশেই ছিলেন না। ঐ সময়ে অর্থাত্ একাত্তর সালের ২৯ মার্চ থেকে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন। পরে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে তিনি লন্ডন যান। পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানের পক্ষে শিক্ষা সনদসহ ৫৯টি ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছিল। সাফাই সাক্ষীরাও তাদের সাক্ষ্যে সালাহউদ্দিন কাদেরের পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানের কথা বলেছেন। আশা করি, আপিল আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও এসব ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে তাকে খালাস দেবেন। গত ১ অক্টোবর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সালাহউদ্দিন কাদেরকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়।