রুহীর চলচ্চিত্র যাত্রা

নিজেকে অন্য কারো মতো নয় বরং স্বকীয়তা ও সৃজনচেতনায় বরাবরই নিজের মতোই নিজেকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন রুহী। এদেশের র্যাম্প মডেলদের মাঝে শীর্ষ অবস্থানে থাকা রুহী তার মেধার পরিচয় রেখেছেন বিজ্ঞাপন ও টিভি নাটকে। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে একজন রুহী নিজের প্রতিভার সবটুকু উজার করে দিয়েছেন শিল্পের সর্বোচ্চ মাধ্যম চলচ্চিত্রে। এখন অবধি তার অভিনীত একটি চলচ্চিত্র মুক্তি না পেলেও মিডিয়ার নানান আলাপচারিতায় বারবার ফিরে আসছে রুহী নামটি। শুধু দেশে নয়, লন্ডনেও এই মডেলকন্যা তার মেধা ও মননের গল্প হয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদে পরিণত হয়েছিলেন। আসছে বিজয় দিবসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে রুহী অভিনীত ‘সংগ্রাম’ ছবিটি। আর নতুন গল্প হলো দেশের গুণী নির্মাতা অনিমেষ আইচের নতুন ছবি ‘জিরো ডিগ্রি’তে অভিনয় করছেন তিনি মাহফুজ আহমেদের বিপরীতে। ‘সংগ্রাম’ ছবিটির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বাঙালি পরিচালক মুনসুর আলীর পরিচালনায় সিনেমাটির মূল উপজীব্য আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ছবিটির কাহিনী গড়ে ওঠেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ নাগরিক করিমকে কেন্দ্র করে। তিনি লন্ডনের একটি টিভি চ্যানেলের মুখোমুখি হন। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান। সে তার প্রেমের গল্পের বর্ণনা করে। আর সেই প্রেম কাহিনীর সাথে উঠে আসে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা। আমানের গল্পে প্রেমের নায়িকা হয়ে দেখা দেয় রুহী। গ্রামের এক উচ্ছ্বল তরুণী চরিত্রে দেখা যাবে রুহীকে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমানকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। আর তখন থেকে গল্প গড়ায় অন্যদিকে। ছবিটির নায়িকা হিসেবে রুহী গেল ২৮ মে লন্ডনের বিবিসি বেতারে ‘সানি অ্যান্ড সাই’ শিরোনামের ৪০ মিনিট ব্যাপ্তিকালের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ওখানে ‘সংগ্রাম’ চলচ্চিত্রটি বাদেও ঢাকাই ছবি নিয়ে রুহীর তার অভিজ্ঞতা ও প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। পাশাপাশি এই প্রজন্মের একজন হয়ে বলেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সময়কার ঘটনা। এ ছাড়াও ‘সংগ্রাম’ ছবিটির নায়িকা হিসেবে যোগ দিয়েছেন ‘লাইমলাইট ফিল্মস অ্যাডওয়ার্ড’-এ। ব্যাক গ্রাউন্ড কম্পোজার আমেনা মুসা ও চিত্রগ্রহণে ছিলেন লরোঞ্জো লিভরিনি। ‘সংগ্রাম’ প্রসঙ্গে রুহী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই ছবিটির ট্রেলার দেখেছি, খুব ভালো লেগেছে। উন্নত প্রযুক্তিতে নিমির্তব্য ছবিটিতে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। যতদূর জানি আসছে মহান বিজয় দিবসে ‘সংগ্রাম’ প্রেক্ষাগৃহে আসবে।’ সংগ্রামের পাশাপাশি রুহীর ‘মায়া নগর’ নামে আরও একটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ হয়েছে। রুহী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ঢালিউডের অন্যান্য নায়ক-নায়িকাদের মতো অভিনয় করছেন কলকাতার ছবিতেও। ইতোমধ্যে তিনি পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তীর দুটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। দু’টি ভিন্ন ধারার গল্পের এই চলচ্চিত্রগুলোতে রুহীকে দেখা যাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। ‘গ্ল্যামার’ ও ‘স্পর্শ’ চলচ্চিত্র দুটিতে রুহীর বিপরীতে আছেন পরমব্রত। ছবি দুটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুহী জানান, ‘প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন ও পরমব্রতের শিডিউলের সময় যথাযথভাবে না মেলায় আগামী বছর মার্চ বাদে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে পরিচালক দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছবি দুটির কাজ শেষ করার বিষয়ে। তবে আমি ইতোমধ্যেই কলকাতা থেকে আরও নতুন ছবির প্রস্তাব পেয়েছি। সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব ভাবছি। কারণ নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে শুরু করতে যাচ্ছি অনিমেষ আইচের নতুন চলচ্চিত্র ‘জিরো ডিগ্রি’র কাজ। ঢাকায় মাসব্যাপী কাজ করার পর ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরে শুটিং হবে ‘জিরো ডিগ্রি’র। অনিমেষ আইচ গুণী নির্মাতা, তিনি নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেন আর গল্পটাও অসাধারণ। এখানে আমার চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমি নীরা নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছি। মাহফুজ আহমেদের স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে আমাকে। আর এটাই মাহফুজ আহমেদের সাথে আমার প্রথম অভিনয়।’ এক প্রশ্নের উত্তরে রুহী বলেন, ‘এখন থেকে আমি নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করব। যদিও আমার পরিচিতি এসেছে একজন র্যাম্প মডেল হিসেবে। তাই শিল্পের এই মাধ্যমটিকে ছাড়তে চাই কখনও। নিজের প্রতিষ্ঠান ‘রুহু ২৫’-এর মাধ্যমে নতুন নতুন ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি যাতে তারা এই মাধ্যমে নিজেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারে।’ কিছু টিভি নাটকে দেখা গেলেও এখন কেন নিয়মিত করছেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টিভি নাটকে আমার আগ্রহ খুব একটা ছিল না। অনুরোধে বেশকিছু কাজ করেছি। সেগুলোতে গল্পের বৈচিত্র্য যেমন ছিল তেমনি ছিল আমার চরিত্রগুলোর ভিন্নতা। আর এখন চলচ্চিত্রে সময় দেওয়ার কারণে টিভি নাটক করাটা সম্ভব হচ্ছে না। তবে টিভিসি করব নিয়মিত। শেষ করেছি গাজী শুভ্র’র পরিচালনায় এলিট পেইন্টের বিজ্ঞাপন। ’ এক সময় ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। এখনও কি তা মনে উঁকি দেয় কখনও কখনও, এমন ভাবনায় রুহী হেসে বলেন, ‘র্যাম্প শুরু করার সময় থেকেই ইচ্ছে ছিল ফ্যাশন ডিজাইনার হবো। সেই লক্ষে শান্তা মরিয়ম থেকে কোর্সও করেছি। ইচ্ছেটা মরে যায়নি বরং দিনকে দিন মনের নতুন জিজ্ঞাসা হয়ে নতুনভাবে নতুন কিছু করার তাগিদ অনুভব করছি। আগামী দিনগুলোতে একজন চলচ্চিত্রের নায়িকা হয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে চাই। কারণ চলচ্চিত্র এমন একটি মাধ্যম যেখানে রুপালি পর্দার হয়ে বেঁচে থাকা যায় বছরের পর বছর। তবে যতই ব্যস্ত হই না কেন একদিন ফ্যাশন ডিজাইনার রূপে রুহী আসবেই। কবে সেটা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। তবে সেটা দূর ভবিষ্যত্ নয়, একটুকু অন্তত বলতে পারি।’