মান্না দে সব ভাষাভাষির

আধুনিক বাংলা গানের কিংবদন্তী শিল্পী মান্না দে। গুণমুগ্ধ কোটি সঙ্গীত পিপাসু বাঙালি শ্রোতার হূদয়ে যে নাম অমর থাকবে তিনি সঙ্গীত সাধক ও সুরসম্রাট মান্না দে। তার মহাপ্রয়াণে বিনম্র শ্রদ্ধা। ‘বাংলা গানের নষ্টালজিক গানের পাখিটি নেই’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হলো সদ্য প্রয়াত মান্না দে স্মরণে আলোচনা সভা। সাংস্কৃতিক সংগঠন শিল্পিতের আয়োজনে বুধবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ড. রনজিত্ কুমার বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান, সুরকার শেখ সাদী খান, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক প্রকাশ চন্দ্র দাস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মেহেরুন নাজ, শরীফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শরীফ আশরাফউজ্জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পিত’র সভাপতি ওসমান গনি। স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, মান্না দে’র মৃত্যুর মধ্যদিয়ে বাংলা সঙ্গীতের স্বর্ণযুগের অবসান হলো। তার মৃত্যু সমগ্র বাংলা সঙ্গীত জগতের জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি সর্বযুগের, সকল দেশের সব ভাষাভাষি মানুষের সম্পদ। সংস্কৃতি সচিব ড. রনজিত্ কুমার বিশ্বাস বলেন, তার গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে যাওয়ায় তিনি অমরত্ব অর্জন করেছেন। ক্লাসিক্যাল থেকে কমেডি, সবধরনের গানেই অনন্য ব্যুত্পত্তি ছিল মহান শিল্পী মান্না দে’র। সংস্কৃতি সচিব বলেন, জীবদ্দশায় তিনি তিনবার কফি হাউজে গিয়েছিলেন, সেখানে প্রতিবারই মান্না দে’র অমর সৃষ্টি ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ গানটি স্মরণ করে চোখের কোণ ভিজে উঠেছে। অথচ জীবদ্দশায় কফি হাউজ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণ ছাড়া মান্না দে’র কফি হাউজে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। তিনি এই গানটিকে একটি সর্বময় অসাম্প্রদায়িক গান বলেও আখ্যায়িত করেন। সেখ সাদি খান বলেন, মান্না দে শুধু বরেণ্য শিল্পী নন মানুষ হিসাবেও অনেক বড়ো মাপের ছিলেন। তার গাওয়া ‘পৌষের রোদ মাখা’ কিংবা কফি হাউজের গানে এসেছে নতুন কুঁড়ি শুধু সেই সেদিনের মালী নেই। এসব গানের মানুষ কিংবা অন্যান্য রহস্য উদ্ঘাটনের আগেই সেই ছেলেবেলায় গানগুলোর দীর্ঘশ্বাস আমার অস্তিত্বে মিশে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সে আমার ছোট বোন’ যতবার শুনেছি চোখের জল রুখতে পারিনি। তার বিখ্যাত গান ‘ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে ঐ’ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্বজাতিকে অপরিসীম প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি কালোত্তীর্ণ, তিনি সর্বযুগের, সকল দেশের, সব ভাষাভাষি মানুষের।