চট্টগ্রামে পণ্যবাহী গাড়ি সংকট ভাড়া দ্বিগুণ, গুদামে স্তূপ
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৬
টানা তিনদিনের হরতালশেষে পণ্য সরবরাহে গাড়ি সংকট দেখা দিয়েছে। বন্দরের ইয়ার্ডে ও বিভিন্ন গুদামে আমদানিকৃত ও বিক্রিত পণ্যের স্তূপ। হরতালশেষে এসব পণ্য সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। চাহিদা অনুপাতে পণ্যবাহী গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। এই সুযোগে পরিবহন কোম্পানিগুলো দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
ব্যবসায়ী ও পরিবহন কোম্পানিগুলো জানায়, হরতালের কারণে পণ্য সরবরাহে জট লেগেছে। গুদামে ও কারখানাগুলোতে পণ্যের স্তূপ পড়ে রয়েছে। সামনে আবারো হরতালের আশংকায় পণ্য পরিবহন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পণ্যবাহী গাড়ির সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, হরতালের মধ্যে পাইকারি বাজারে ভোগ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য বেচাকেনা হয়েছে। বন্দরে পণ্য খালাস হয়েছে। কিন্তু সরবরাহ হয়নি। এখন পণ্য গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো নিয়ে ব্যবসায়ী ব্যস্ত হয়ে নেমেছেন। পরিবহন সংস্থা জানায়, হরতালের কারণে অধিকাংশ গাড়িচালক বাড়িতে চলে গেছে। তারা এখনো ফিরেনি। অনেক গাড়ি বিভিন্নস্থানে আটকা পড়েছে। তাই গাড়ি সংকট দেখা দিয়েছে। হরতালের আগের অর্ডার নেয়া অনেক পণ্য এখনো সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে। তার উপর নতুন চাপ পড়েছে। এ ব্যাপারে আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মদ ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, চাহিদা অনুপাতে গাড়ির সংকট রয়েছে। চালক নেই। ভাড়াও বেড়েছে। ব্যবসায়ী বাড়তি ভাড়া দিয়ে হলেও পণ্য নিতে চান। পণ্য নিয়ে গাড়ি গেলে কয়দিন পরে ফেরতে আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গাড়ি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ভাড়া নিতে হচ্ছে।’
চট্টগ্রামে বেসরকারি তিনশতাধিক পণ্যগুদাম রয়েছে। গুদামগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য, কেমিক্যাল, মসলাজাতীয় পণ্য ও সার মজুদ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে গুদাম মালিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম ঠিকাদার ও কমিশন এজেন্ট এসোসিয়েশন ভাইস চেয়ারম্যান নেয়াজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘গুদামগুলোতে প্রচুর পণ্য মজুদ রয়েছে। হরতাল শেষ হওয়ার পর গুদাম থেকে পণ্য সরবরাহ শুরু হয়েছে।’
পণ্য পরিবহন সমিতি জানায়, সমিতিভুক্ত সাড়ে তিন হাজার ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চট্টগ্রাম থেকে ভোগ্যপণ্য ছাড়াও বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় উত্পাদিত পণ্য, লোহার রড, সিমেন্ট, ঢেউটিন অন্যান্য পণ্য দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ হয়। এসব কারখানার সাথে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার পণ্য পরিবহন নিয়ে বাত্সরিক চুক্তি রয়েছে। কিন্তু গাড়ি সংকট দেখিয়ে পরিবহন সংস্থাগুলো শিল্প মালিকদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।