বিপিসি পৃথক ফার্নেস অয়েল কোম্পানি গঠনের বিরোধী

বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল সরবরাহের জন্য আলাদা কোম্পানি গঠন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আপত্তি জানিয়েছে। বিপিসি’র গত ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বোর্ডসভায় ফুয়েল সাপ্লাই কোম্পানি নামে আলাদা কোম্পানি গঠন করা হলে সেক্ষেত্রে বিপিসি এবং এর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানসমূহের বিভিন্ন আর্থিক সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়। সরকার বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), বিপিসি এবং বেসরকারি স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ফুয়েল সাপ্লাই কোম্পানি (এফএসসি) নামে আলাদা কোম্পানি গঠনের বেশকিছুদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার থাকবে শতকরা ৫১ ভাগ, বিউবো-এর শেয়ার থাকবে ৩৯ ভাগ এবং বিপিসি’র থাকবে শতকরা ১০ ভাগ। সরকারের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বেসরকারি স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এন্ড কোম্পানি লিঃ-এর অনুকূলে রিকোয়েস্ট ফর প্রফোজাল (আরএফপি) ইস্যু করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছে। উক্ত আরএফপিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর মতামত প্রদানের জন্য বিপিসি’র নিকট গত ২১ আগস্ট এক পত্র দেয়া হয়। বিপিসি’র সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিপিসি জ্বালানি মন্ত্রণালয় কর্তৃক তৈরি সকল ডকুমেন্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা করে এবং জ্বালানি তেল বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থাসহ এর আর্থিক দিক পর্যালোচনা করে গত ২১ অক্টোবর বিপিসি’র বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ ধরনের বেসরকারি কোম্পানী গঠনের ফলে বিপিসি এবং এর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ভবিষ্যত্ কার্যক্রমের ওপর কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে তা আলোচনা করা হয়। বিপিসি’র বোর্ড সভার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে বলা হয়, সরকার এ ধরনের আলাদা সাপ্লাই কোম্পানি গঠন করতে চাইলে বিপিসিকে এর সাথে সম্পৃক্ত না করাই সমীচীন হবে বলে বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অফিসার্স এসোসিয়েশনসহ অন্যান্য কর্মচারী ইউনিয়ন ফুয়েল সাপ্লাই কোম্পানি গঠনে সরকারের প্রস্তাবের প্রতিবাদে জরুরি বৈঠক করেছেন।