পথে-ঘাটে

‘হোদল রাজা বলল ডেকে বুদ্ধ রাজা, আজকে থেকে করব না আর যুদ্ধবাজি তুই যদি ভাই থাকিস রাজি।’ সাইবার ক্যাফেতে বসে এক তরুণ একটু উচ্চে:স্বরেই আওড়ালো কবিতাটি। তারপরেই বলতে থাকলো, ‘কবিতার এই হোদল রাজা আর বুদ্ধ রাজার খেলা শুরু হয়ে গেছে। তারা যুদ্ধ করতে চায় না। আবার হাত থেকে অস্ত্রও ছাড়ে না। পাশের চেয়ার থেকে আর একজন বলল, কেহ কারো নাহি ছাড়ে সমানে সমান। - ফোনালাপ তো না যেন ঝগড়ালাপ। - নিজেরা নিজেদের কথা বলেছে। ঐ কথায় আমাদের কি লাভ। - দেশের কথা দশের কথা তো আর নেই। - আমারে এই করেছ, আমারে ওই করেছ। যে কথা হয়েছে তা তো মাত্র তিন মিনিটের কথা। তিন মিনিটে এই কথা শেষ করা যেত। ৩৭ মিনিট ধরে শুধু শুধু প্যাচাল পেড়েছে। - শুধু তিনটে কথাই তো বলেছে। - টেলিফোনের সার কথা কি? কোন কনক্লুশন টেনেছে তারা? - দেশের দুই প্রধান নেত্রী কথা বলেছেন। তা থেকে মানুষ কিছু তো শিক্ষা নেবে। কিন্তু কি শিক্ষা পেল? টেলিফোনে কথা বলার সময় একজন আর এক জনের সাথে এই ভাবে কথা বলে? একজনের কথা শেষ করতে না দিয়ে কথা বলতেই থাকে? এটা তো একটা ঝগড়া হয়েছে। কোন নীতি কথা বা কোন নৈতিকতা বা কোন আদর্শ কিছুই কি আছে? - আমরা তো জানি না একজন উচ্চশিক্ষিত বা দেশের উচ্চপর্যায়ের মানুষ কি ভাবে কথা বলে। যদি এভাবেই সবাই কথা বলে তবে আমার সাথে তাদের পার্থক্যটা কোথায়? - শিষ্টাচার বলে তো কিছুই নেই। একজন টেলিফোন করে জানালো তার আট বছরের ছেলে টেলিফোনের আলাপ শুনে জানতে চেয়েছে, বাবা উনারা কি ঝগড়া করছে? তাহলে বাচ্চারাও বা কি শিখছে? - খুব সাধারণ কথা। আপনি আসেন আমরা কথা বলি। আর সে বলবে আচ্ছা। আসবো। কিম্বা আসবো না। ব্যাস। কিন্তু তা না। দু’জন মিলে করল ঝগড়া। - শুধু শুধু টেলিফোনের টাকা খরচ। সাইবার ক্যাফের নিয়ন্ত্রক একটু রসিকতা করে যোগ দিল। - এই ফোন আরো বিভ্রান্ত করেছে। প্রথম দিন মনে হলো ভালই হয়েছে। একটা মাইল ফলক হয়ে থাকবে। কি উদার তারা। কিন্তু পরে দেখা গেল দু’জন দু’জনের দোষ দিতেই ব্যস্ত। - টেলিফোন খারাপ না ভাল। এই নিয়ে আমার কি? - একেবারে ঘরের মহিলাদের মত আচরণ। গতানুগতিক মহিলাদের মত। - ব্যক্তিগত চরিত্র তো জানতাম না। এখন একটু জানা গেল। ভালই হইছে। উনাদের চেনা গেল। - টেলিফোন ভাল না খারাপ তা নিয়েই যেন তেত্রিশ মিনিট কথা বলেছে। এক কথা কয়বার বলা লাগে? দু’জনই এক কথায় বার বার বলেছে। তার মানে কি? তাদের নিজেদের কথার কোন মূল্য নেই? - এখন কে টেলিফোনে কথা বলে জিতল তাই নিয়ে আলোচনা চলছে। কে প্রয়োজনীয় কথা বলল তা কিন্তু আর নেই। কে কর্কশ কণ্ঠে ছিল। কে ছিল দরদি কণ্ঠে। কণ্ঠ দিয়ে মধু না ঝোলা গুড় বের হয়েছে তার হিসেব নেই। - কে কথা বলে জিতল তা না। কে ঝগড়া করে জিতল তা নিয়ে আলোচনা চলছে। টক শো দেখলে তাই মনে হচ্ছে। - সেটাই। আরে ভাই এটা তো সংসদে বা অন্য কোথাও বিতর্ক প্রতিযোগিতা না যে কার কথার মাধ্যমে কে কতটা জনপ্রিয় হলো তা মূল্যায়ন করতে হবে। - একটা সৌজন্য কথা বলা নিয়ে কি অবস্থা। - আমাদের সব কিছুতেই বেশি বেশি করার প্রবণতা। - যদি সত্যিই আলোচনায় বসতে চায় তবে এত হাউকাউ কেন? এত কথা বলাবলির কি আছে? - খালেদার বলা উচিত, আমি আসছি আপনি থাকেন। আর হাসিনারও বলা উচিত, আপনি আসেন আমি আছি। ব্যাস শেষ। কিন্তু তা হচ্ছে না।