বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করা দুরূহ ব্যাপার
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া প্রত্যাখ্যান করলেও সরকারি দলের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। ‘সাধিলাম, খাইলেন না’ এমনই অবস্থা হয়েছে বর্তমান বিরোধী দলের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়া) সব সময় রাজকীয় ভাব। একবার দাওয়াত দিলাম। আবার দাওয়াতের জন্য বসে আছেন। আমরা একশ’বার দাওয়াত দেব। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ স্ট্যান্ডিং (চলমান)। আমরা তার রিপ্লাইয়ের (জবাব) জন্য অপেক্ষা করছি।
গতকাল বুধবার গণভবনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুর জেলার দলীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের নামে আর সময়ক্ষেপণ না করে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে নামার ঘোষণা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর ও আশেপাশের ছয়টি জেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এসময় সৈয়দ আশরাফ দলীয় সংসদ সদস্যদের সেন্টিমেন্টের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘বিএনপি ইজ নট এ নরমাল পলিটিক্যাল পার্টি। কমপ্লেক্স পলিটিক্যাল বিষয় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করা দুরূহ ব্যাপার। মিলিটারি কায়দায় রাজনৈতিক দলের মনোভাব বোঝা কঠিন।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, খালেদা জিয়া আইএসআইয়ের (পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা) টাকায় আন্দোলন করছেন। পাকিস্তানিরা চায় না বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ দেশ হোক। বিরোধী দলের আন্দোলন আসলে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার আন্দোলন। দুই নেত্রীর টেলি কথোপকথন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতাকে ফোন করেছিলেন। তিনি (খালেদা জিয়া) যে কথা বলেছেন, তাতে জাতি তাঁকে তিরস্কার করছে। আমাদের আমন্ত্রণ স্ট্যান্ডিং (বহাল) রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক দলীয় নয়, সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চান বলেই সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
আরেক সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব ও সংবিধান পরিপন্থী’ উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখনই সংলাপের প্রস্তাব দেন তখনই খালেদা জিয়া আল্টিমেটাম দিয়ে তা ভেস্তে দেন। দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ২৭ অক্টোবর থেকে বর্তমান সরকার অবৈধ হলে তবে সরকার চালাচ্ছে কে? দেশ, সরকার, প্রশাসন, সংসদ সবই আছে, তবে কাকে আপনি অবৈধ বলছেন? আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সরকার বৈধ। তিনি ৩ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভাকে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমুদ্রে পরিণত করে বিরোধী দলের সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের তরফ থেকে সংলাপের উদ্যোগ যথেষ্ট হয়েছে। তারা (বিরোধী দল) উদ্যোগ না নিলে আলোচনার দরকার নেই। আমাদের কর্মীদের নির্বাচনী যুদ্ধে নেমে পড়ার নির্দেশ দিন।
তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে দলীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, বেনজীর আহমেদ ও মুন্সীগঞ্জের লুত্ফর রহমান বলেন, খালেদা জিয়াকে আর কোনো ছাড় দেয়া উচিত হবে না।