আওয়ামী লীগ ধরে রাখতে ও বিএনপি পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হলেও মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা, বিতর্ক ও শঙ্কা বিরাজ করলেও ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে তারা এলাকায় গণসংযোগ, আলোচনা, মতবিনিময়, সামাজিক, ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে কুশল বিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দলের অনুসারীদের মাধ্যমে পোষ্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে প্রার্থিতার কথা জানাচ্ছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি মহাজোট ধরে রাখার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। অপরদিকে বিএনপি এ আসনটি পুনরুদ্ধারের কাজে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করেছে। তাছাড়া জাতীয় পার্টিও মাঠে ব্যাপক তত্পরতা চালাচ্ছে। বর্তমান সংসদ সদস্য মহাজোট থেকে নির্বাচিত এডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন আগামী নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুর রহমান বাদলকে তার উত্তরাধিকার হিসাবে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু মঞ্চের সভাপতি নিয়াজ মুহাম্মদ খাঁন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউল হক সরকার, ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিডিবিএল পরিচালক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জহিরউদ্দিন সিদ্দিক টিটু, ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম নবী, ব্যারিষ্টার জাকির হোসেন, এডভোকেট মোঃ আকবর হোসেন, এডভোকেট মোঃ খোরশেদ আলম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, ফয়জুর রহমান বাদল দীর্ঘদিন যাবত্ এলাকায় গণসংযোগ করছেন, মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করছেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী হিসাবে জনগণের কাছে ব্যাপক সমর্থন ও সাড়া পাচ্ছেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য তকদীর হোসেন মোঃ জসীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সায়ীদুল হক সায়ীদ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শফিকুল ইসলাম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন ও বিশিষ্ট আইনজীবী গোলাম সারোয়ার। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন— কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোবারক হোসেন দুলু, উপজেলা জাপার সভাপতি কাজী মামুন। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ঢাকা মহানগর যুব ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য মোঃ আব্দুল কাদির সরকার শাওন, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা মেহেদী হাছান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে এলাকায় গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। তবে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হলেও মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।