কুমিল্লায় শত বছরের প্রাচীন পুকুর ভরাট : নির্লিপ্ত পরিবেশ অধিদপ্তর
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:০৭
কুমিল্লা মহানগরীতে পরিবেশ ও জলাধার আইন লংঘন করে যত্রতত্র চলছে প্রাচীন পুকুর ও দীঘি ভরাট। এ বিষয়ে কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নোটিস প্রদান ও মামলা প্রক্রিয়ার নামে রহস্যজনক কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ বছরে যোগসাজশে নগরীর সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানার প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাচীন পুকুর-দীঘি ভরাট করে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে নগরীর পরিবেশ ক্রমেই বিপন্ন হতে চলছে।
জানা যায়, নগরীর মুরাদপুর এলাকায় জানু মিয়া মসজিদ সংলগ্ন কয়েকশ’ বছরের পুরনো বিশাল একটি পুকুর গত কিছুদিন ধরে দিন-রাত মাটি ফেলে ভরাট করছে একটি প্রভাবশালী মহল। কিন্তু স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে এ পর্যন্ত কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এর আগে নগরীর সুজানগর এলাকায় বক্সী মাজার সংলগ্ন একটি দীঘি ভরাটের সময় স্থানীয়রা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানালেও কোন প্রতিকার পায়নি। ওই দীঘিটি ভরাটের পর বর্তমানে বহুতলা বিশিষ্ট বাড়ি-ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া একই প্রক্রিয়ায় নগরীর চকবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শত বছরের পুকুরটিও ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, এ পর্যন্ত নগরীর সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানার প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাচীন পুকুর-দীঘি ভরাট করা হয়েছে। যার বেশিরভাগেই বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর পুকুর ভরাট বন্ধে নোটিস প্রদান ও মামলা দায়েরের নামে কালক্ষেপণ করেছে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক গোলাম মর্তুজা বলেন, জানু মিয়া মসজিদ সংলগ্ন পুকুরটির ভরাট কাজ বন্ধ রাখার জন্য নোটিস প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর চকবাজার ও সুজানগর এলাকার ভরাটকৃত পুকুর ও দীঘির বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, কেউ জলাধার ও পরিবেশ আইন লংঘন করে ভরাট করলে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।