যেখানে সবার চেয়ে
‘এগিয়ে’ বাংলাদেশ!
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:০৪
আগেরদিনই অনুমান করা হচ্ছিল ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ পর্যন্ত হলও তাই। টানা ব্যাটিং ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাওয়া ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের পরিবর্তে মাঠে নামলেন শামসুর রহমান শুভ। তাতে বাংলাদেশের ২৭৫টি ওয়ানডের ইতিহাসে অভিষেক হয়ে গেল ১০৮তম ক্রিকেটারের। যদিও শুভ ভালভাবে শুরু করেও শেষ পর্যন্ত ২৫ রান করেই আউট হয়ে যান।
প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নেমে শুরুতে কোনভাবেই ব্যাটে বলে হচ্ছিল না শুভর। প্রথম ৪৫ বল খেলে করেন মাত্র ১০ রান। এরপর নাথান ম্যাককালামের বলে পর পর দু’টি ছক্কা মারার পর কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরে আসেন তিনি। এরপরও ইনিংসটা খুব বেশিদূর টেনে নিয়ে যাওয়া হল না তার। শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে ২৫ রান করে সেই নাথানের এক নিরীহ দর্শন ফুলটসে সামনে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। যদিও তামিম ইকবালের সাথে তার উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে ৬৩ রান এনে দেয়।
ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত গতকাল অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার খেলাটিসহ মোট ওয়ানডের সংখ্যা ৩৪২৬। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে ভারত (৮৩৭)। সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড়কে অভিষেক দিয়েছে ইংল্যান্ড (২৩১)। টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশই। আর খেলোয়াড় অভিষেকের দিক থেকেও বাংলাদেশ সবার পিছনেই আছে। কিন্তু কৌতূহলের ব্যাপার হল, বাকি দেশগুলোর তুলনায় ম্যাচ প্রতি বাংলাদেশের জার্সিই বেশি বিতরণ করা হয়েছে বলেই পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ৪৮৪ ম্যাচের দীর্ঘ ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র ১১০ জন খেলোয়াড়কে অভিষেক দিয়েছে। জিম্বাবুয়ে ৪২১ ম্যাচে দিয়েছে ২১৭ জনকে। ম্যাচ প্রতি খেলোয়াড় অভিষেকের হারে সব থেকে বেশি এগিয়ে আছে বাংলাদেশই। গাণিতিক হিসেবে প্রতি ২.৫৪ ম্যাচে একজন করে খেলোয়াড়ের অভিষেক হয় বাংলাদেশে। এতো কম বিরতিতে অভিষেক ঘটানোর কাজ আর কোনো দেশ করেনি!
এদিক থেকে সব থেকে এগিয়ে আছে জিম্বাবুয়ে। আফ্রিকান দেশটির হয়ে ৪২১ ম্যাচে খেলেছেন ১১৭ জন খেলোয়াড়। অর্থাত্ প্রতি সাত ম্যাচে তাদের হয়ে একজন খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে। এরপরের স্থানগুলোতে আছে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই দুটি দেশের হয়েই প্রতি ৪.৫ ম্যাচে একজন করে ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছে।
প্রতি চার ম্যাচে একজন করে খেলোয়াড়কে অভিষেক দিয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যথাক্রমে ৩.৫৩ ও ৪.২৩ ম্যাচে একজন করে ক্রিকেটারকে অভিষেক দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে কেবল ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের আতুরঘর এই দেশটির হয়ে ৬০৮টি ওয়ানডে ম্যাচে অভিষেক হয়েছে ২৩১ জনের। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে প্রতি ২.৬৩ ম্যাচে একজন করে খেলোয়াড়কে অভিষেকের সুযোগ দিয়েছে ব্রিটিশরা।
দেশ ম্যাচ খেলোয়াড়
ভারত ৮৩৭ ১৯৯
অস্ট্রেলিয়া ৮২৪ ২০৪
ইংল্যান্ড ৬০৮ ২৩১
শ্রীলঙ্কা ৬৯৮ ১৫৬
সাউথ আফ্রিকা ৪৯৪ ১১০
পাকিস্তান ৮০০ ১৯২
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭০২ ১৬৬
নিউজিল্যান্ড ৬৪৩ ১৮২
বাংলাদেশ ২৭৫ ১০৮
জিম্বাবুয়ে ৪২১ ১১৭