অন্তর্বর্তী সর্বদলীয় সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে আগামী নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে কোন আপোষ হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরিন আখতার, নাজমুল হক প্রধান, জাসদের উপদেষ্টা ডা. মাহবুবর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি আন্দোলনের ট্রেন মিছ করেছে, নির্বাচনে না আসলে তারা নির্বাচনের ট্রেনও মিছ করবে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একবার ডাক দিয়েছি। বার বার ডাক দেয়া সম্ভব নয়। সংলাপ হতে পারে। সংলাপ আমরাও চাই। তবে এখন সংলাপ চাইলে বিরোধীদলকেই এগিয়ে আসতে হবে। এ নিয়ে কোন হুমকি-ধামকি দিয়ে কোন লাভ হবে না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের একটাই লক্ষ্য হলো দেশের অস্তিত্বকে নষ্ট করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। স্বাধীনতার প্রশ্নে কোন ছাড়া দেয়া যাবে না। স্বাধীনতার সপক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আমি দেশের এই ক্রান্তিকালে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের আর বসে থাকার সময় নেই। কারণ তারা (বিএনপি-জামায়াত) মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। তিনি বলেন, এদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই কেন্দ্রীয় ১৪ দল এক সাথে কাজ করছে। আমাদের এই লড়াই দীর্ঘ। গত দুই বছর ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে একাত্তরের পরাজিত শক্তি নানাভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, চক্রান্তকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত এক সাথে জোট বেঁধে যুদ্ধাপরাধী তেঁতুল হুজুরদের পক্ষ নিয়েছে। তাদের এই সাম্প্রদায়িক জোট বাংলাদেশের জন্য হুমকি। তাদের এখন মোকাবেলা করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত গায়ের জোড়ে ক্ষমতা দখল করতে চায়। তবে তাদের ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের মধ্যেই তাদের পরাস্থ করা হবে এবং তারপর নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে।