মোরেলগঞ্জে পান চাষে সফল দিপিকা রানী

সিডর বিধ্বস্ত উপকূলীয় এলাকা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দিপিকা রানী পান চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটছে দিপিকা রানীর। তার দেখাদেখি অনেকেই পান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে। উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের সন্ন্যাসী গ্রামের বিমল চন্দ্র শিকদারের স্ত্রী দিপিকা রানী। দুই সন্তান দোলন চাঁপা ও দেবশ্রীকে নিয়ে তার সংসার। পানের বরজ ছিল তাদের সংসারের আয়ের উত্স। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে মোরেলগঞ্জ ৪৩৮ বর্গকিলোমিটারের প্রতি ইঞ্চিতে। মহাপ্রলয়ংকরী সিডরে উপকূলীয় এলাকার সবুজের সমারোহকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছে। প্রভুত ক্ষতিসাধিত হয়েছে বৃক্ষরাজি ও উঠতি ফসলের। এই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর কেড়ে নেয় দিপিকা রানীর সুখ-স্বপ্ন। সিডরের ভয়ঙ্কর থাবায় তাদের আয়ের একমাত্র উত্স পানের বরজটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েন দিপিকা রানী ও তার স্বামী বিমল চন্দ্র শিকদার। এ সময়ে বিভিন্ন সংস্থা কিছু ত্রাণ বিতরণ করলেও তাদের স্থায়ী আয় বৃদ্ধির জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। ২০০৯ সালের প্রথমদিকে আইডিবি, আইবিএফ, ফায়েল খায়ের এগ্রো ইন-পুটস প্রোগ্রাম মোরেলগঞ্জ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হলে এর কর্মকর্তাদের সাথে পরিচয় হয় দিপিকা রানীর। প্রোগ্রামের সুদমুক্ত ঋণের কথা শুনে দিপিকা রানী তাদের সদস্য হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ইউনিটের নিয়মানুযায়ী দিপিকা রানীকে তাদের সদস্য করে নেয়া হয়। এখান থেকে প্রথম পর্যায়ে তাকে ২০ হাজার টাকা পান চাষের জন্য প্রদান করা হয়। সন্তোষজনকভাবে প্রথম পর্যায়ের কিস্তি নিয়মিতভাবে পরিশোধ করায় দিপিকা রানীকে দ্বিতীয় পর্যায়ে আবারো ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। তৃতীয় পর্যায়ে দিপিকা রানী আবারো ২৮ হাজার টাকা দিয়ে নতুন উদ্যমে পান চাষ শুরু করেন। প্রতি সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে পান বিক্রি করে তিনি ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি দুই সন্তান দোলন চাঁপা ও দেবশ্রীর লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে বেশ কিছু টাকা সঞ্চয়ও করতে পারছেন। এখন আর দিপিকা রানীকে পিছন ফিরে তাকাতে হচ্ছে না।