রাজনৈতিক সহিংসতায় বাড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষতি
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৩
হরতালে সহিংসতা, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার কারণে সার্বিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও ভয়াবহ রাহুর কবলে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে উত্পাদনবান্ধব পরিবেশ। ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ওপর।
বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি গত ১০ বছর ধরে যে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে তার বড় কারণ হলো অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তি। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও স্বাভাবিক প্রত্যাবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে অর্থনীতির। হরতালের কারণে অতিমাত্রায় চাপে পড়লে সে ক্ষমতা কমে যাবে। ফলে ধ্বংস হবে অর্থনীতি।
পত্রিকায় প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের হরতালে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বছরে গড়ে ৪০টি হরতাল হয়, যাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া হরতালের আগের দিন ও হরতালের দিন যে জনভোগান্তি, কখনো প্রাণহানি, তার পরিমাণ তো অর্থের মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ডিসিসিআই-এর গবেষণায় দেখা গেছে—পাঁচ মাসের হরতালে বাংলাদেশের শিল্প এবং ব্যবসা-বণিজ্য খাতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৈরি পোশাক খাত। বাস্তবে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হবে। জানুয়ারি থেকে মে—এই পাঁচ মাসে দেশব্যাপী হরতাল হয়েছে ৩২ দিন। এর বাইরে আঞ্চলিক হরতাল এবং অবরোধসহ অন্যান্য কর্মসূচি ছিল, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করেছে। হরতালে ক্ষতির পরিমাণ একদিনে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা হলে ৩২ দিনের হরতালে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। এই ক্ষতির শীর্ষে আছে পোশাকশিল্প। একদিনের হরতালে পোশাকশিল্পে ৩৬০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। আর ৩২ দিনের হরতালে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিগুলো ক্রমশই বাড়ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেছেন, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাইলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। সহিংসতা ও হরতালের ধারা বহাল থাকলে প্রবৃদ্ধির ওপর পড়বে মারাত্মক প্রভাব। এমনিতেই অর্থনীতিতে অশনিসংকেতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক আকাশ কালো মেঘমুক্ত করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের একত্রে বসা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতি একটা দেশের মূল চালিকাশক্তি। অথচ আমাদের দেশে একের পর এক হরতালে বাণিজ্য ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সকলের জানা উচিত পঙ্গু স্থবির অর্থনীতির দেশ কখনো স্বনির্ভর হতে পারে না। দেশের অর্থনীতি বাঁচলে দেশ বাঁচবে; আর দেশ বাঁচলে আমরা বাঁচবো, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও বাঁচবেন—এই মৌল সত্যটিকে অগ্রাহ্য করে জাতীয় অর্থনীতিবিধ্বংসী যে সর্বনাশা রাজনীতি শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে আমরা কেউ এই ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবো না।
ঢাকা