দরকার ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ

দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অস্থিরতার মূল কারণ কী? সাধারণভাবে যেটি দৃশ্যমান, তা হলো ক্ষমতাসীন সরকারের আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা। কিন্তু এটি কি শুধু এবারের দৃশ্য? না—এ দেশের জনগণ ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারীবিরোধী আন্দোলনের পর থেকেই শুধুমাত্র ভোটের দ্বারা নির্বাচিত সরকারগুলোর শেষ সময়ে তৈরি এ অবস্থা দেখে অভ্যস্ত। নির্বাচনে হেরে বিরোধী দলে গেলে প্রথম থেকেই কারচুপিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংসদ বয়কট অব্যাহত রাখা (যদিও সংসদ সদস্য হিসাবে সরকারি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ করেন না) এবং সারা বছর বিভিন্ন অজুহাতে হরতালের নামে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা, নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজপথে বিভিন্ন দাবি আদায়ের নামে নিজেদের সম্পৃক্ত করা। আর ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতা ত্যাগের সময় হলেই যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে। বিরোধী দল কোনো উপায় না পেয়ে বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে নিয়োজিত হয়। পিছন ফিরে তাকালে বিএনপি আমলের শেষের দিকে একই দৃশ্য দেখা যাবে। বস্তুতপক্ষে এ দেশের সরকারি দল আর বিরোধী দল আজব এক রোগে ভুগছে। আর সেটা হলো আজীবন ক্ষমতায় থাকার বাসনা। সমস্যাটি যত না রাজনৈতিক তার চেয়ে বেশি সাংবিধানিক। যদি কোনো নেতা বা নেত্রী নাগাড়ে (৪ বছর মেয়াদি) দুই টার্মের বেশি রাষ্ট্রীয় বা দলীয় ক্ষমতায় থাকতে না পারেন তবে বর্তমান দৃশ্যপটের আমূল পরিবর্তন হবে। দেখা যাবে সরকারের বা দলের কর্মকাণ্ডের জন্য নেতা-নেত্রীরা দলেই জবাবদিহিতার মুখোমুখি হচ্ছেন, দলীয় আদর্শে উদ্বুদ্ধ কর্মীরা দলকে সুসংহত করতে সচেষ্ট হচ্ছেন, দলে সত্ নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে। সর্বোপরি দলে উপযুক্ত নেতা-নেত্রী তৈরি হওয়ার পথ সুগম হতো। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সংবিধানের আওতায় এ দেশে তা সম্ভব নয়। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো যে দুষ্ট চক্র দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েছে তাতে ভোটের দ্বারা নেতা-নেত্রীদের চেয়ার পরিবর্তন ছাড়া আর কী বা আশা করা যায়? তাই সময় এসেছে সংবিধান সংশোধনের। যে সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হবে ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কোনো নেতা বা নেত্রীকে দুই টার্মের বেশি ক্ষমতায় থাকতে না দেওয়া। সংবিধানে আরো একটি সংশোধনী আনা জরুরি। এ বিরাট জনসংখ্যার দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের সমস্যা একরকম নয়। তাই দরকার ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। রংপুর