সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বইপড়া নীরব প্রতিবাদ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচি ৩৫ বছর আগে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয়েছিল। এখন সারাদেশে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে গেছে। প্রতিবছর নতুন করে আরো শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী মহত্ এই কর্মসূচির সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হলে একটি আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। আর এই প্রজন্মটি যখন দেশের দায়িত্ব নিবে তখন দেশটি সত্যিকার অর্থে সোনার বাংলায় পরিণত হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা প্লাজাতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত একাদশ শ্রেণির বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরীর সেরা ৯টি কলেজ এবং কেন্দ্রভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচির মোট ৭২৫ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বই পড়া কর্মসূচি একটি নীরব প্রতিবাদ। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধেও এটি নীরব প্রতিবাদ। এভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে একদিন সমাজের বড় ধরনের অস্থিরতা বন্ধ হবে। বইপড়া প্রতিযোগিতায় চারটি বিভাগে মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বাংলা সাহিত্য ও পৃথিবীর কিশোর সাহিত্যের সেরা ১২টি বই পড়ার সুযোগ পেয়েছে। একটি ছোট সরল পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বইপড়া মূল্যায়ন করে, পঠিত বইয়ের উপর ভিত্তি করে চারটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে। মূল্যায়ন পর্বে যারা ৬টি বই পড়েছে তারা পেয়েছে ‘স্বাগত পুরস্কার’। যারা ৮টি বই পড়েছে তারা পেয়েছে ‘শুভেচ্ছা পুরস্কার’। যারা ১০টি বই পড়েছে তারা পেয়েছে ‘অভিনন্দন পুরস্কার’ এবং যারা ১২টি বই পড়েছে তারা পেয়েছে ‘সেরা পাঠকের পুরস্কার’। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস, হলিক্রস কলেজের অধ্যক্ষ শিখা গোমেজ, বিকল্পধারার চলচিত্র আন্দোলনের পথিক এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি মাহবুব জামিল, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।