স্কুল শিক্ষকদের যত দাবি

দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় উত্কণ্ঠায় কাটছে মাধ্যমিক স্কুলের এক লাখ, রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্যানেলভুক্ত ২৬ হাজার এবং সরকারি প্রাথমিক স্কুলের জন্য পুলভুক্ত ২৫ হাজার শিক্ষক। এছাড়া পদমর্যাদা বৃদ্ধির দাবিতে শিক্ষকরা প্রায়শই আন্দোলন করছেন। শিক্ষকদের বক্তব্য, বর্তমানে আন্দোলন কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা মাঠে নামছেন না। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর দাবি আদায়ে শিক্ষকরা মাঠে নামবে। উত্কণ্ঠায় পুলের ১৫ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক উচ্চতর প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা, মাতৃত্বকালীন, হজ্ব, তীর্থযাত্রা, অসুস্থতাসহ শিক্ষকদের নানা ধরনের ছুটির কারণে প্রায় প্রতিদিনই দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এর বাইরে মৃত্যুসহ অন্যান্য কারণেও শিক্ষকের পদ শূন্য হচ্ছে। আর এই অনুপস্থিতি ও শূন্যতার কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে। তাই শিক্ষক পুল গঠন করে পুল থেকে বিদ্যালয়গুলোতে ওই শূন্যতা পূরণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সে অনুযায়ী গত বছরের ১৪ আগস্ট প্রকাশিত নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষক পুল গঠনের জন্য ১৫ হাজার ১৯ জনকে সহকারী শিক্ষক হিসাবে সুপারিশ করা হয়। এর বাইরে ১২ হাজার ৭০১ জনকে সহকারী শিক্ষক হিসাবে শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রায় ১৪ মাস আগে তাদের নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হিসাবে ঘোষণা দেয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রক্রিয়া বিলম্ব হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছেন, পুল শিক্ষকের নিয়োগের ফাইল এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। দ্রুত এসব শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ভাগ্যবঞ্চিত রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিকের প্যানেলভুক্ত শিক্ষকরা! রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য একইসঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক- তৃতীয়াংশ নিয়োগ পেলেও বঞ্চিত রয়েছেন ২৬ হাজার শিক্ষক। রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারি হওয়ার ফলে তাদের ভাগ্য যেন থেমে আছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১২ সালের ২২ এপ্রিল ৪২ হাজার ৬১১ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত করে। সেখান থেকে ১৪ হাজার জনকে নিয়োগ দিয়ে অবশিষ্ট ২৬ হাজার জনকে পরবর্তীতে নিয়োগের জন্য প্যানেলভুক্ত করে রাখে। প্রজ্ঞাপনে উপজেলা ভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও নিয়োগ দেয়া হয় ইউনিয়ন ভিত্তিক। সূত্র জানায়, পাঁচ বছর মেয়াদী প্যানেল থেকে ৩০ হাজার নিয়োগের কথা ছিল। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারি করার ঘোষণা দেন। ফলে বিপাকে পড়ে প্যানেলভুক্ত শিক্ষকরা। এসব শিক্ষক জানান, মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বলা হয়েছে যে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য। কিন্তু এসব বিদ্যালয় এখন সরকারি করা হয়েছে। অতএব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদে প্যানেলভুক্ত শিক্ষক থেকে নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়। গত ২৪ জুলাই এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের আত্তীকরণের পর অবশিষ্ট ২৬ হাজার শূন্যপদ নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের মহাসচিব এম নাজমুল হক বলেন, নতুন সরকারি হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই পদে আমাদের নিয়োগ দেয়া সম্ভব। এছাড়া প্যানেলভুক্ত শিক্ষক অনেকেই অন্য চাকরি নিয়ে চলে গেছেন। এখন ১৫ হাজার শিক্ষক থাকতে পারে। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে আগামী ১০ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে। এমপিওভুক্তি চান স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৫ হাজার মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। শিক্ষকরা বলছেন, আর্থিক সংকটে তারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের ব্যানারে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। শিক্ষকরা বলেন, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার এবং শিক্ষক প্রায় এক লাখ। এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে সরকারের বছরে প্রয়োজন হবে ৫ থেকে ৬শ কোটি টাকা। দাবি আদায়ে শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি এশারত আলী, অধ্যক্ষ মিলন কুমার ঘোষাল ও সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার কুন্ডু। পদমর্যাদার অপেক্ষায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদান, প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড-এর সমান মর্যাদা, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণসহ ১১ দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলন করে আসছেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্যাহ সরকার বলেন, দাবি আদায়ে শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ চায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতেও শিক্ষকদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। এসব শিক্ষকের দাবি, প্রাথমিকের মতো মাধ্যমিকের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে। শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রধান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া বলেন, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা না হলে শিক্ষকরা মাঠ ছাড়বেন না।