নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সুজনের বিকল্প প্রস্তাব

আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন। দুইটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে তা বিবেচনার জন্য সরকার, প্রধান বিরোধীদলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিক প্রতিনিধিদের প্রতি ‘ভাবার’ আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, মহাজোটের পাঁচজন সংসদ সদস্য, ১৮ দলীয় জোটের পাঁচ জন সংসদ সদস্য ও একজন দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিকে (যিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন) নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা। অপর বিকল্পটি হলঃ দল নিরপেক্ষ পাঁচ জন ব্যক্তি (তাদের একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন), মহাজোটের পাঁচ জন সংসদ সদস্য এবং ১৮ দলীয় জোটের পাঁচ জন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। ‘বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে’ সুজন এ আহবান জানায়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে সংকটময় আখ্যা দিয়ে বড় দুই দল তা নিরসনে এগিয়ে আসছে না এবং নির্বাচন কমিশন তাদের কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা। একইসাথে দুই নেত্রীর ফোনালাপের রেকর্ড প্রকাশের ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান বিশিষ্টজনরা। প্রস্তাবিত সরকার ব্যবস্থার গঠন বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ ধরনের সরকার গঠনের লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান বিচারপতিগণকে নিয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে ওই কমিটিকে শর্তসাপেক্ষে এই ১১ বা ১৫ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোন সদস্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা নির্বাচনী প্রচারণায় লিপ্ত হতে পারবেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ হবে ৯০ দিন এবং নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার বাইরে সরকারের রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে নিজেদের তারা সীমাবদ্ধ রাখবেন। দ্বিতীয় বিকল্পটি কার্যকর করতে হলে নির্দলীয় ব্যক্তিদের উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করে আনতে হবে। এক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে না। তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময়। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোন উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনও বিতর্কিত হচ্ছে তাদের কার্যকলাপের কারণে। তারা এখানো পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারেনি এটা দুঃখজনক। কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনী কারো সাথে আলাপ-আলোচনা না করেই করলো। সুজনের সহ-সভাপতি এস এম শাহজাহান বলেন, সমাধান ও সমঝোতার লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। ইতিহাসের কাছ থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাস কাউকে ছাড় দেয় না। আর সংলাপ যদি সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে তা আরো উদ্বেগজনক। সুজনের নির্বাহী সদস্য বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো লোভ তৈরি করা সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে না। কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এখন শুধু নির্বাচন নয় দেশের ভবিষ্যত্, আইনের সুশাসন, মানবাধিকার নিয়ে সংলাপ হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, সংশোধিত আরপিও একটি নষ্ট ও নিকৃষ্ট প্রলোভন। এ আরপিও অনুযায়ী খালেদা জিয়া চাইলে বিএনপি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, না ভোটের বিধান প্রর্বতন খুবই জরুরি। নির্বাচনে যেই পরাজিত হোক না কেন সেই দলকে অবশ্যই সংসদে যেতে হবে। প্রয়োজনে তারা সংসদে গিয়ে বারবার ওয়াকআউট করুক। তিনি বলেন, বিচারপতিরাও মানুষ, তারা লোভ-লালসার উর্ধ্বে নন। তাই তাদেরকেও প্রতি বছর আয়কর বিবরণী প্রদানের বিধান করতে হবে। ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের বিষয়ে নাগরিকদের সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সকল রাজনীতিক-ব্যবসায়ী-সাংবাদিকসহ নানাপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।