চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ, ভাংচুর

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ন্যায় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়েও বিপাকে পড়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। কোন প্রকার সম্মেলন কিংবা মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাথে মতামত গ্রহণ ছাড়াই কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করায় মূল সংগঠনের নেতারাই বিড়ম্বনায় পড়েছেন। আবার কমিটি নিয়ে ছাত্র সংগঠনের আভ্যন্তরীণ দলাদলি এবং গ্রুপিংয়ের কারণে নগরবাসীর জান-মাল নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ২৪ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয় গত বুধবার। কমিটি ঘোষণার পরপরই সন্ধ্যার পর শুরু হয় নগরীতে ভাংচুর। বিরোধী দলের টানা তিনদিনের হরতাল কর্মসূচির পরদিন আবার নগরীতে রাতের আঁধারে যানবাহনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে এক ভীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মহানগর কমিটিতে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং নির্বিচারে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে অর্ধ শতাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বৃহস্পতিবারও নগরীর বিভিন্ন কলেজ ও এলাকা থেকে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা ছুটে আসে এবং জামালখানসহ তত্সংলগ্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নেয়। গত বুধবার নগর ছাত্রলীগের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪ সদস্যের ঘোষিত কমিটির বেশিরভাগ নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ কমিটিতে নগর আওয়ামী লীগের অপর প্রভাবশালী নেতা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন এবং নগর আওয়ামী লীগ নেতা আ.জ.ম নাসির উদ্দিনের সমর্থকদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত অনেক কম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কমিটি গঠন করা নিয়েও পদবঞ্চিতরা নগর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক নেতাকে দায়ী করেন। তবে ছাত্রলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রাক্তন নেতা বলেন, কিছু নেতা তাদের পছন্দের নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। তাদের মতে, সম্মেলন করে এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতো না। দীর্ঘ ১০ বছর পর কমিটি গঠন করায় কে কতোটুকু যোগ্য এবং কার প্রতি অন্যদের সমর্থক রয়েছে তা যাচাই-বাছাই করার সুযোগ রাখা হয়নি। অন্তত দুই বছর পরপর নতুন কমিটি গঠন করা গেলে পর্যায়ক্রমিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হতো বলে সংশ্লিষ্ট প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতাদের অভিমত। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কমিটি গঠন না হওয়ায় ছাত্র রাজনীতিতে নতুনদের আগমনও স্তিমিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে একই কমিটি থাকায় অছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব চলে যায়। এর ফলে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।