দিনাজপুরে হঠাত্ করেই ওষুধের দাম বেড়েছে
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৪
দিনাজপুরে ওষুধের বাজার হঠাত্ করে চড়া হয়ে উঠেছে। ফলে বিড়ম্বনায় পড়েছে ওষুধ ক্রেতারা। কোম্পানির লোকদের সাথে আঁতাত করে পূর্বমূল্যের ওষুধ মজুদ করে নতুনভাবে স্টিকার লাগিয়ে বাড়তি আয় করে ফার্মেসিগুলো। বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে যে যেভাবে পারছে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দিনাজপুরের কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতিসূত্রে জানা যায়, ২২ হাজার আইটেম ওষুধ উত্পাদন হলেও মাত্র ১১৭ আইটেমের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। ১৯৯৪ সালে একটি আইন পাস করায় সরকার অন্য আইটেমের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। ফলে ইচ্ছামত মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার্য আমদানি কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে বার বার ওষুধের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার ওষুধের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ওষুধের মূল্য ১০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের এন্টাসিড সিরাপ হঠাত্ করে ৩২ থেকে ৬৫ টাকা, এন্টাসিড প্লাস সিরাপ ৫৫ টাকা থেকে ৭৫ টাকা করা হয়। সিডিল ট্যাবলেট ৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা, ইনসেপ্টার ব্যথানাশক মায়োলাক্স এক পাতা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, রেডিয়েন্ট কোম্পানির নেপ্রসিন ৫শ’ মি: গ্রা: ১১২ থেকে ১১৫ টাকা, ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্লিক্লিজাইডের মূল্য বাড়ানো হয়েছে পাতাপ্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা, প্যাসিফিকের মেটকো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, এক্সআর ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকা, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ওরামেট (৫০০ মি:গ্রা:) প্রতি বক্স ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, স্কয়ারের কমেট প্রতি বক্স ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, রিউক্যাপ ২৫ মি:গ্রা: প্রতি পাতা ৬০ থেকে একশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দিনাজপুর কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি বলেন, আমরা প্রতারিত হচ্ছি। ওষুধের গুণাগুণ বোঝার মতো কোন মেশিন নেই। ড্রাগ সুপার ৩টি জেলার দায়িত্বে থাকায় মনিটরিং ভাল হচ্ছে না। ডাক্তারদের উপঢৌকন, কোম্পানির লোকদের শান-শওকতের জন্য খরচ হওয়া অর্থ তুলতেই তারা হঠাত্ করেই মূল্য বৃদ্ধি করেন। দিনাজপুর ড্রাগ সুপার অফিসে না থাকায় তার পক্ষে অফিসের জনৈক স্টাফ জানান, সরকার ওষুধের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর কারণে কোম্পানিগুলো মূল্য বৃদ্ধি করেছে। মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।