নজরদারির বিপক্ষে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ঐক্য

বিশ্বব্যাপী এখন নজরদারির বিষয়টি রয়েছে আলোচনার শীর্ষে। প্রযুক্তির সহায়তায় এখন যেকোনো ধরনের অনলাইন অ্যাকাউন্টে নজরদারি সহজ হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অনুরোধে তাদের গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য সরবরাহ করে থাকে। অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগল’র মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গোয়েন্দা সংস্থার অনুরোধগুলোর ধরণ প্রকাশও করে আসছে নিয়মিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) বরাবর এবারে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একটি চিঠির মাধ্যমে এই ম্যাস সারভাইলেন্স প্রোগ্রামের পুনর্গঠনের অনুরোধ জানিয়েছে। এওএল, অ্যাপল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট, গুগল এবং ইয়াহু যৌথভাবে এই অনুরোধ জানিয়েছে চিঠি পাঠিয়েছে। তাদের এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রবাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটা অন্যতম প্রধান কাজ। তবে এটি নিয়ে আরও অনেক কাজই করার রয়েছে। ইন্টারনেট জুড়ে সাধারণ মানুষের যে নির্ভরতা রয়েছে, প্রশাসন যেন কংগ্রেসের সাথে কাজ করে সেটা নিশ্চিত করে তার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের নজরদারির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ বরাবরই এগিয়ে রয়েছে। অনলাইন নানা অ্যাকাউন্টেও এই সংস্থাটি আঁড়িপাতার কাজটি করে আসছে। চলতি বছরের জুন মাসে এনএসএতে কাজ করা এডওয়ার্ড স্নোডেন এ সম্পর্কিত বেশকিছু নথি মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করে দিলে তোপের মুখে পড়ে সংস্থাটি। ফোন রেকর্ড এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্যের সাহায্যে বিভিন্ন মানুষের অজ্ঞাতসারে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখোমুখি হয় এনএসএ। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তো বটেই, অন্যান্য দেশেও এই তথ্য সংগ্রহ প্রকল্প চালু রয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এই প্রক্রিয়া বন্ধের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্য প্যাট্রিক জে লিহি এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের সদস্য ফ্যাংক জেমস সেনসেনব্রেনার ‘ইউএসএ ফ্রিডম অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গোপনে ফোনে আঁড়িপাতা এবং অনলাইনে নজরদারি বন্ধ করা। তাদের এই বিলের মূলকথাকেই নিজেদের চিঠির মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে হাজির করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ যেসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করছে, তাদের পক্ষ থেকে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিষয়ক বিতর্ককে স্বাগত জানাই। ইউএসএ ফ্রিডম অ্যাক্ট এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ... এই বিল নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের সাথে আমরাও কাজ করতে চাই এবং তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়গুলোও নিশ্চিত করতে চাই।’