সমতা ফেরালো পাকিস্তান
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৯
লেগ স্পিনার শহীদ আফ্রিদী এবং পেসার মোহাম্মদ ইরফানের নেয়া ছয় উইকেটের সুবাদে গত শুক্রবার দুবাইতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬৬ রানে পরাজিত করে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান।
স্বাগতিক পাকিস্তানের তোলা ২০৯ রানের জবাবে আফ্রিদী ও ইরফান তিনটি করে উইকেট দখল করলে সফরকারীরা ৪০.৪ ওভারে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায়। শারজায় বুধবার অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এক রানের নাটকীয় জয় পাওয়ায় পাঁচ ম্যাচের সিরিজটি এখন ১-১ ব্যবধানে আছে। আগামী ৬ ও ৮ নভেম্বর আবুধাবিতে ও ১১ নভেম্বর শারজায় সিরিজের বাকি ওয়ানডেগুলো অনুষ্ঠিত হবে। আফ্রিদী এবং ইরফানের পাশাপাশি সাইদ আজমল ১৫ রানে নিয়েছেন দুটি উইকেট। চলতি বছরে তিনিই সবচেয়ে বেশি উইকেট দখল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। প্রোটিয়াদের পক্ষে রায়ান ম্যাকলারেন সর্বোচ্চ ২৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পর পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ বলেন, ‘এটা ছিল সত্যি একটা ভাল পারফর্মেন্স। বিশেষ করে কম রানের সংগ্রহ গড়ার পর। আমাদের বোলাররা আবারো আমাদের জিতিয়েছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স জানান যে, তার দলের ব্যাটিং দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমাদের কিছু সমস্যা আছে এবং এটা সারিয়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। আমি খুবই হতাশ। পাকিস্তান আমাদের জন্য অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’
পাকিস্তানি অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক পঞ্চম ওভারে স্পিনারদের আক্রমণে নিয়ে আসেন। বাঁহাতি পেসার সোহেল তানভীরের বলে দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র চার রানে বোল্ড হয়ে কলিন ইনগ্রাম ফিরে যাবার পরে মোহাম্মদ হাফিজকে আক্রমণে আনা হয়। এরপরই প্রোটিয়া শিবিরে আঘাত হানেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্পিনার সাইদ আজমল।
আজমল দিনরাত্রির এ খেলায় গ্রায়েম স্মিথকে (১৪) তার প্রথম শিকারে পরিণত করায় দক্ষিণ আফ্রিকানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৩/২। এর ছয় বল পরে জেপি ডুমিনি (২৫) মোহাম্মদ ইরফানের দ্বিতীয় স্পেলে স্লি¬পে ধরা পড়েন। আউট হবার আগে ডুমিনি নিজের ক্যারিয়ারের ১০৬তম ম্যাচ খেলে তিন হাজার রান সংগ্রহের কৃতিত্ব দেখান।
আফ্রিদী নিজের প্রথম ওভারের বল করতে এসেই ফাফ ডু প্লে¬সিসকে এলবিডব্লি¬উ’র ফাঁদে ফেলে উইকেটের খাতা খুলেন। পরের ওভারেই ডেঞ্জারম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্সকে বিপজ্জনক হয়ে উঠার আগেই মাত্র ১০ রানে কট বিহাইন্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠালে প্রোটিয়াদের ইনিংস দাঁড়ায় ৭৩/৫। এর ১০ রান পরে ডেভিড মিলারকে (১১) এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন হাফিজ। ম্যাকলারেন এবং ওয়েন পারনেল সপ্তম উইকেটের সমাপ্তি ঘটে ৩৫ রানে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরের নজির গড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি সফরকারীদের। এর আগে ২০০০ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রোটিয়ারা ১০১ রানে অলআউট হয়েছিল।
এর আগে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ ৮৫ বলে চার বাউন্ডারির মারে দল সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন। এরপর হাফিজ (২৬), আফ্রিদী (২৬) এবং অধিনায়ক মিসবাহ (২৫) আউট হয়ে গেলেও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ৪৯.৪ ওভারে ২০৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। ম্যাকলারেন ৩৪ রানে চারটি এবং মর্নে মরকেল ৩৮ রানে তিন উইকেট দখল করেন। এই ম্যাচে মিসবাহ চলতি বছরে ওয়ানডেতে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসাবে এক হাজার রান পূর্ণ করার কৃতিত্ব দেখান। অপর দুজন হলেন অস্ট্রেলিয়ার জর্জ বেইলি এবং ভারতের বিরাট কোহলি।
-বাসস/এএফপি