কওমী মাদ্রাসায় হাত দেবেন না
১৫ নভেম্বর শাপলা চত্বরে হেফাজতের মহাসমাবেশ
চট্টগ্রাম অফিস ও হাটহাজারী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫২
প্রস্তাবিত কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন প্রত্যাহার, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ঈমান আকীদা রক্ষার্থে ১৩ দফা বাস্তবায়ন এবং গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৫ নভেম্বর শুক্রবার রাজধানীর শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করবে হেফাজতে ইসলাম।
জুমার নামাজের পর মহাসমাবেশ শুরু হবে। নামাজে ইমামতি করবেন সংগঠনের মহাসচিব আল্ল¬ামা জুনায়েদ বাবুনগরী। শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশে বাধা দেয়া হলে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। ঢাকায় মহাসমাবেশের পূর্বে আগামী শুক্রবার খুলনাতেও মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল হাটহাজারীর পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলামের বিভাগীয় মহাসমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত ৫ মে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দিবাগত রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অসংখ্য নেতাকর্মীর মৃত্যু হয় বলে হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশসহ ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
গতকালের বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতের আমীর আল্ল¬ামা শাহ আহমদ শফী। প্রধান বক্তা ছিলেন হেফাজতের মহাসচিব আল্ল¬ামা জুনায়েদ বাবুনগরী। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা হেফাজতের সভাপতি আল্ল¬ামা সালাহউদ্দিন নানুপুরী। সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা মাশায়েখসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি হেফাজতের নিজস্ব প্রায় ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রামসহ সারা দেশের লক্ষাধিক তৌহিদী জনতা সমাবেশে যোগ দেন বলে হেফাজত নেতারা জানান।
সমাবেশে আল্ল¬ামা শাহ আহমদ শফী সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, কওমী মাদ্রাসায় হাত দেবেন না। কওমী মাদ্রাসা কারও আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হবে না। কওমী মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা হবে।
তিনি বলেন, নারী জাতিকে ইসলাম অত্যন্ত মর্যাদার আসন দিয়েছে। তাদেরকে তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি। ফুলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ফুল দামি বস্তু। এর সুবাস সবাই পেতে চায়। তাই নারীদেরকে সেভাবেই চলতে হবে। নারীদের চাকরি করতে নিষেধ করা হয়নি মন্তব্য করে আল্ল¬ামা শফী বলেন, তবে তাদেরকে পর্দা পুশিদা মেনে চাকরিস্থলে যেতে হবে।
আল্ল¬ামা শফী হেফাজত নেতা মুফতি ওয়াক্কাস, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি খুলে দেয়া এবং শাপলা চত্বরে শহীদ ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
গতকাল কর্মসূচি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, হেফাজত বাংলাদেশের কোথাও তাণ্ডব ঘটায়নি। সন্ত্রাস করে ছাত্রলীগ যুবলীগ আর মামলা হয় হেফাজতের বিরুদ্ধে। তিনি হেফাজতের আমীর আল্ল¬ামা শফীর বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীকে পিটিয়ে ‘তক্তা’ বানানো হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মইনুদ্দীন রুহী সমাবেশে বলেন, কতিপয় দালাল নিয়ে সরকার কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন করতে চায়। সরকারের এ উদ্যোগ সফল হতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিয়ে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়া হবে।
আবদুল হামিদ পীরজাদা মধুপুরী হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, সবকিছুর শেষ আছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিথ্যা মামলার শেষ নেই।
আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, হেফাজতের যোগাযোগ সরাসরি আল্ল¬াহর সঙ্গে। আল¬াহ ছাড়া আমরা কারো কাছে মাথা নত করি না। তাই ভয়ভীতি দেখিয়ে হেফাজতকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।