পথে-ঘাটে
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
- দাদারা কি বলে?
- সবাই মনে হয় দাদাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
- দাদা বল, ভাই বল—নত এক দিকে হতেই হবে, তাই না?
রাজধানীর ধলপুর এলাকার একটি চায়ের দোকান ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় জমে ওঠা আড্ডায় কথা চলছিল। তিন বেঞ্চে দুইজন দুইজন করে বসেছিলেন ছয় মধ্য বয়সী। আয়েশি ভঙ্গিতে চা-সিগারেট সহযোগে আড্ডা চলে লম্বা সময় ধরে।
- আমাদের ওই দুই দলেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। ঘুরে ফিরে তো ওরাই। আর কিছু নেই।
- আবার হরতাল! এর বাইরে আর কিছু নেই। করবেও না।
- দাদাদের সিগন্যাল পেলে এসব বন্ধ করবে।
- ছুটাছুটি তো করতাছেই। সবার সমর্থন আদায়ে ছুটাছুটি শুরু করছে।
- এই ছোটাছুটি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তাই এখন দেখার বিষয়।
- পাঁচ বছর পর আবার যা তাই। একই হবে।
- দাদাগিরির খপ্পরে না পড়লে হয়তো এগুলো ঠিক হতো; কিন্তু সেখান থেকে তো আর বের হয়ে আসতে পারছে না।
- নিজেরা জানলেও দাদার উপর নির্ভর কইরা বইসা থাকবো।
- একটা দল পাঁচ বছরের বেশি টানা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এমন নিয়ম করতে হবে। পাঁচ বছর যাবে আর তাকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে। অন্য যে দলগুলো আছে শুধু তাদের মধ্যেই ভোট হবে। আবার পরের বার অন্য দল। তাহলে হয়তো এই মারামারি শেষ হবে।
- আরে না। এই হয় নাকি?
- হয় না তা তো জানি। আমাদের এমনই করা দরকার। কিম্বা পরপর দুইবার থাকবে। এরপর আর না। প্রধানমন্ত্রী, এমপি— সবার জন্য এই নিয়ম করা দরকার।
- হরতাল কইরা লাভ হইবো বুঝতাছি না। আওয়ামী লীগ সহজে কিছুই ছাড়বো না।
- আরে আওয়ামী লীগ কি এত সাধু যে তাদের একবারে বিশ্বাস করা যায়? তাছাড়া ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন করলে নিয়নন্ত্রণ করতে পারবে না।
- তা ঠিক। শেখ হাসিনা নিজে চাইলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তিনশ আসন কি করে এক হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে। এখনই দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ঠিক মতো। আর নির্বাচনের সময়? কোনভাবেই সম্ভব না। হাসিনা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে সে নিজে চাইলেও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না। দলের ক্যাডাররা নিজের নিজের আসনে তাদের ইচ্ছে মতো নির্বাচন করবে।
- বিএনপি আন্দোলন করে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না।
- আওয়ামী লীগও খুব একটা ধরে রাখতে পারবে না। বেশি বাড়াবাড়ি করাও তো ঠিক হবে না। পাখা উঠলে বেশি ওড়ে। আর বেশি উড়লেই মরে। এটা তো আর নতুন কিছু না।