ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করতে যাচ্ছে ইসি
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৮
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব জনবল থেকে নয় বরং জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিজস্ব জনবল থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করার ব্যাপারে ইসি সচিবালয় থেকে কমিশনের কাছে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দেয়া হলেও তাতে সাড়া মিলেনি। বরং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা করার ব্যাপারে সম্মত রয়েছে কমিশন। ইসির দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যদিও সর্বশেষ নবম জাতীয় নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সকল উপ-নির্বাচন থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তারাই ছিলেন। তবে ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংস্থা দু’টির মতে, নির্বাচনে ডিসিরা রিটার্নিং অফিসার থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত সপ্তাহে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক কমিশনের কাছে নিজস্ব জনবল থেকে আগামী নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা করার ব্যাপারে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু কমিশন তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। বরং ডিসিদের থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করার ব্যাপারে জোর দেয়া হয়। এর আগে এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিগত কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল, নিজস্ব জনবল থেকে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। পাশাপাশি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিসিদের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যাপারে যুক্তি দিয়ে একাধিক নির্বাচন কমিশনার ইত্তেফাককে বলেছেন, কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হলে প্রশাসনিক নির্দেশ পালন করা কঠিন হবে। আর ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করলে প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড বজায় থাকবে। তাদের প্রশাসনিক সক্ষমতাও অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। তাছাড়া আগামী নির্বাচন যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনে হবে সেহেতু প্রশাসনিক কমান্ড জরুরি।
তবে কমিশনের কর্মকর্তারা সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী। তারা বলেছেন, বর্তমান কমিশন সচিবালয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, আঞ্চলিক কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করা যেতে পারে। পাশাপাশি উপজেলা কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা করার মতো জনবল রয়েছে।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হলে প্রশাসনে দলীয় প্রভাবের আশংকা রয়েছে। ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারা ভালোভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নজীর স্থাপন করেছেন।
এ বিষয়ে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, কমিশনের নিজস্ব জনবলের ঘাটতি না থাকলে তাদের মধ্যে থেকে আগামী নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা করতে হবে। নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে কাজ করালে তাদের ওপর কমিশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। আর দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন হলে ডিসিদের দলীয় আনুগত্য প্রকাশ পাবে।