ধর্মঘটে আবারো অচল জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটি

শিক্ষক সমিতির ডাকা অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক ধর্মঘটে আবারো অচল হয়ে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক সমিতির ধর্মঘটের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সংগঠন সাধারণ শিক্ষক ফোরাম। অচলাবস্থা নিরসনের আহবান জানিয়েছে বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক মঞ্চ। এর মধ্যে জাকসু নির্বাচনের ঘোষণা নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আসন্ন প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও রয়েছে শংকা। দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফলে ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় সেশন জটে পড়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী। দুই পক্ষের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিমত। গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগ দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট। টানা ৭দিন কর্মবিরতির পরে গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল দুপুর একটায় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় ২৬ অক্টোবর থেকে সাত দিনের কর্মবিরতি এবং ২ নভেম্বর থেকে সর্বাত্মক ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস-পরীক্ষা,পরিবহন,সকল অফিস ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে। গতকাল সকাল ৮ থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় প্রোভিসি(শিক্ষা) অধ্যাপক এমএ মতিন, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক আফসার আহমেদ, রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক এবং এ প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা -কর্মচারীরা প্রশাসনিক ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন গতকাল তার অফিসে আসেন নি। পরিবহন থেকে কোন গাড়ি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি বলে পরিবহন অফিস সূত্রে জানা যায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অফিস এবং প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত বিভিন্ন অফিসেও ছিল তালা। তবে গতকাল বেশ কয়েকটি বিভাগে কিছু শিক্ষককে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা যায়। শিক্ষক মঞ্চের আহবান এদিকে বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক মঞ্চ গতকাল নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে অনতিবিলম্বে ক্লাস-পরীক্ষার স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার এবং শিক্ষক ও ভিসিকে লাঞ্ছনার ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য উদ্যোগের আহবান জানান তারা। জাকসু, রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট এবং ভিসি প্যানেল নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহবান জানান। এতে অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, অধ্যাপক মানস চৌধুরী ,রায়হান রাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জাকসু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া: জাকসু নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ দিন পর জাকসু নির্বাচনের ঘোষণা যেমন ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করেছে । ঠিক তেমনি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট প্রশ্ন। নিরাপত্তার প্রশ্নই আসছে সবার আগে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে শুধু ছাত্র ইউনিয়ন ছাড়া বাকি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও নেই পরিষ্কার কোন অবস্থান। সেশনজট, শংকায় ভর্তি পরীক্ষা টানা চতুর্থবারের মতো ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের টানা আন্দোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে একাডেমিক কার্যক্রম। প্রতিবছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সাধারণত অধিকাংশ বিভাগের প্রতিটি ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এ বছরের অধিকাংশ সময় শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা থেকে দূরে ছিলেন শিক্ষকরা। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। ফলে সেশনজটের কবলে পড়ছেন হাজারো শিক্ষার্থী। অন্যদিকে আসন্ন ২০১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও রয়েছে আশংকা। ইতিমধ্যে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ২ নভেম্বর থেকে পরিবর্তন করে আগামী ১৭ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটি অনুষদের ডিন ভর্তি পরীক্ষার সভায় যোগদান না করলে বিভাগ ভিত্তিক পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বেশ কিছু বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তাদেরকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব মোহাম্মদ আলী জানান, আশা করছি ৫ অক্টোবরের মধ্যে সকল বিভাগের কমিটির তালিকা হাতে পাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ভিসি সর্বদা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতারণা করে চলেছেন। তার চলে যাওয়াই এ সংকটের একমাত্র সমাধান। ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির কাছে এ অবস্থা জানিয়ে চিঠি দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আমি চলে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পরেও শিক্ষকদের এ ধরনের আচরণ থেকেই প্রকাশ পায় আসলে তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা কতটুকু।