দক্ষিণাঞ্চলে সবজির দাম গত বছরের দ্বিগুণ

শীতের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারি বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও দাম গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। গত বছর এ মৌসুমে যেসব সবজি বিক্রি হতো প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় তা চলতি বছর বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শীতল আবহাওয়া পড়ার সাথে এ এখানকার আড়তগুলোতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, মূলা, বেগুন, নতুন আলু ব্যাপক সরবারহ হচ্ছে। খুচরা বাজারে মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ধনে পাতা, কাঁচা টমেটো, পালংশাক, লাউশাক, লালশাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজির দাম চড়া। মাছের আকাল আগের মতই। শীতকালীন মাছ হিসাবে সুস্বাদু কৈ, শোল, গজাল, শিং কিংবা মাগুর মাছের দেখা মিলছে না বাজারগুলোতে। মিঠাপানির মাছের দেখা নেই। নদীর যে সামান্য ছোট মাছ যেমন বাইলা, কাচকি, দগরি (চেগরি) মাছ বিক্রি হচ্ছে তা প্রতি কেজি ৩শ’ টাকার উপরে। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বাজারে গিয়ে এ সব ক্রয় করা সম্ভব না। নগরীর কাঁচামালের পাইকারি বাজার সিটি মার্কেট, বাজার রোড, পোর্টরোড, বাজারগুলো ঘুরে গতকাল শুক্রবার দেখা গেছে শীতকালীন শাক-সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। পাইকাররা বেশি দামে এসব তরিতরকারি বিক্রি করছে। আড়ত থেকে খুচরা বিক্রিতে ৩৫/৪০ টাকা দরে শাক-সবজি ক্রয় করে নগরীর বিভিন্ন বাজারে নিয়ে ৫০/৬০ টাকা করে বিক্রি করছে। গতকাল এখানকার বাজারে প্রতিকেজি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায়, সিম ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, সালগম প্রতিকেজি ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় তাদের ১০/১৫ গজ দূর থেকেই বেশি দামে শীতকালীন শাক-সবজি ক্রয় করতে হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যও একই রকম বলে ক্রেতারা জানান। শীতকালীন মাছের স্বাদ ভুলতে বসছে এ অঞ্চলের মানুষ। বাজারে এখন আর মিঠা পানির মাছের দেখা মিলছে না। মৌসুমেও বাজারগুলোতে চলছে মাছের আকাল। এ মৌসুমে শিং, মাগুর, শোল, কই, বাছা, পুঁটিসহ সুস্বাদু মাছের স্থান দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের চাষ করা মাছ। দেশি জাতের সামান্য কিছু শিং ও মাগুর, শোল মাছ বাজারে এলেও তা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৮শ’ থেকে হাজার টাকায়। শিং, মাগুর, কই, টেংরা মাছ কেজিপ্রতি দাম এখন ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। ফলি, বাইন, কোরাল, শোল (ছোট), রাজপুঁটি বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকায়। বাজারগুলোতে সাধারণ মাছ ৩শ’ টাকার নিচে কোন মাছ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। চাষ করা যে সব মাছ বাজারে উঠছে তা দিয়েই মানুষ কোন রকম চাহিদা মেটাচ্ছে।