ম্যান বুকার পুরস্কার ২০১৩

এলিয়ানর ক্যাটন

শখের বশে উপন্যাসটা লিখলেও নিউজিল্যান্ডের লেখিকা এলিয়ানর ক্যাটন পেয়েছেন বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার, ম্যান বুকার পুরস্কার। এর আগে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে এবং কমনওয়েলথভুক্ত দেশের লেখকরা বুকার পুরস্কার পেতেন। এখন বিশ্বের যে কোনো দেশের লেখকই এখন এ পুরস্কার পেতে পারেন, বাধ্য-বাধকতা একটাই, বইয়ের ভাষা হতে হবে ইংরেজি। ৪৫ বছরের বুকার পুরস্কারের সর্বকনিষ্ঠ বিজেতা হিসেবে মাত্র আঠাশ বছর বয়সে এ পুরস্কার পেয়ে ক্যাটন ইতিহাসের পাতায় নাম লিখালেন। এটি তার দ্বিতীয় উপন্যাস। নাম ‘দ্য লুমিনারিস’। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তবে ৬ বছর বয়সে পরিবারের সাথে নিউজিল্যান্ড চলে আসেন। পড়াশুনা করেছেন ইংরেজি সাহিত্যে। নিউজিল্যান্ডের ক্যান্টরবুরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ক্যাটন এর বুদ্ধিদীপ্ত ফিকশন ‘দ্য লুমিনারিস’ এ ১৮৬৬ সালে নিউজিল্যান্ডে স্বর্ণখনি শ্রমিকদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। লন্ডনের গিল্ডহলে ডাচেস অব কর্নওয়েল ক্যামিলার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের পর তার অনুভূতি ব্যক্তকালে তিনি ‘দ্য লুমিনারিস’কে প্রকাশকের দুঃস্বপ্ন ছিল বলে উল্লেখ করেন। এই দুঃস্বপ্নই যেন শেষমেশ তার স্বপ্ন পূরণের প্রথম সিঁড়ি হয়ে গেল। সুদীর্ঘ এ উপন্যাসটি লেখার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় যেমন দিয়েছেন, তেমনি ছিল তার অধ্যবসায়, প্রতিদিন অন্তত দু’হাজার শব্দ না লিখে তিনি দিন শেষ করতেন না। নারী সাহিত্যিকদের ব্যাপারে অনেকের বিভিন্ন কটুক্তি, অবজ্ঞা, অবহেলাকে উপেক্ষা করে সোচ্চার কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘নারী ও পুরুষ সাহিত্যিকদের মাঝে তফাত করতে গিয়ে অনেকে বলে বসেন নারীরা সাহিত্যে শুধু তাদের অনুভূতিই ফুটিয়ে তোলেন আর পুরুষেরা দেন সুচিন্তিত বক্তব্য, তাদের অবগতির জন্য জানাই নারীরাও তাদের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ করেন একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারা থেকেই। তাই নারী সাহিত্যিক বলে তাদের তাচ্ছিল্যের চোখে না দেখাই শ্রেয়’। অভিজ্ঞতাকে মূল না ধরে তরুণদের সৃষ্ট সাহিত্যের প্রাপ্য মর্যাদা দেয়ায় বুকার পুরস্কার কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভোলেননি ক্যাটন। সম্মানজনক বুকার পুরস্কারের সাথে তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার পাউন্ড, স্বভাবতই উচ্ছ্বাসটাও এক্ষেত্রে অনেক বেশি তরুণ এই লেখিকার। পুরস্কারের অর্থের সাহায্যে নিজের ছোট্ট একটা ঘর বাঁধবার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বর্তমানে সৃজনশীল লেখা বিষয়ে শিক্ষকতা করা এলিয়ানর লেখালেখির বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক ফেলোশিপ পেয়েছেন। লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে ইতিমধ্যে অ্যাডাম পুরস্কার, দ্য গার্ডিয়ান ফার্স্ট বুক পুরস্কার, অরেঞ্জ পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন।