এ গি য়ে যা ও য়া না রী

নিজেই প্রমাণ করতে হয় নিজেকে

খাদিজা বেগম কাকলী। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইউমেন এন্ড জেন্ডার স্ট্যাডিজ’ ডিপার্টমেন্ট থেকে স্নাতক ও স্নাকোত্তর সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা অবস্থায়ই কাকলী নিজের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাবার লক্ষ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ গুরু করেন বৃট্রিশ কাউন্সিল, জেন্ডার হ্যাল্থসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ও এনজিও’এ। একদিকে পড়াশোনা অন্যদিকে কাজ, দুই ম্যানেজ করেন বিচক্ষণতার সাথে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হবার পরও যুক্ত থাকেন খণ্ডকালীন এ কাজের সাথে। ২০১০-এর জুনে কাকলী জয়েন করেন বেসরকারি ব্যাংক ‘ব্যাংক এশিয়া’য় ট্রেনি অফিসার পথে। তিনি বলেন, ‘চাকরি পাওয়া নিয়ে খুব একটা স্ট্রাগল করতে হয়নি আমাকে। প্রথম ব্যাংকে ইন্টারভিউ, প্রথম চাকরি! তবে হোচট খেতে হয়নি তার কারণ হতে পারে আমি আগ থেকেই ব্যাংকিং জবের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছিলাম।’ প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন না করলেও কাকলী একই প্রতিষ্ঠানে সময় ও নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেশনাল শৃঙ্খলার আদলেই। কর্মদক্ষতা, সততা, কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা, পেশার প্রতি সম্মানবোধ্যতা প্রতিফল দিয়েছে খাদিজা বেগম কাকলীকে। নিজের যোগ্যতায় নিষ্ঠায় পরিশ্রমে তিনি উত্তরণ ঘটিয়েছেন নিজের। ট্রেনি অফিসার থেকে ব্যাংকিং অফিসার। ব্যাংকিং অফিসার থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ড অফিসার। ২০১০ থেকে অদ্যবধি এই প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত আছেন তিনি। এ অধ্যবসায়ী এখন কাজ করছেন সিনিয়র অফিসার হিসেবে। চাকরিটাই শেষ কথা নয়। এখনও প্রতি মুহূর্তেই খাদিজা বেগম প্রতিযোগিতা করছেন নিজের সাথে, নিজের পেশাগত কাজের সাথে। প্রতিদিনই নিজের কাজের দক্ষতাকে বাড়াতে কোনো না কোনোভাবে উত্তরণ ঘটান নিজের মেধার, দক্ষতার, যোগ্যতার। কর্তব্যে খেয়ালি, কাজে নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী খাদিজা অফিস করেন অফিসিয়াল নিময়েই ১০-৬টা। তবে কাজের প্রয়োজনে এ হিসাব তার কাছে বড় বিষয় হয়ে বাজে না। প্রয়োজনে দ্বিধা না করে সাবলীলভাবেই কখনো কখনো কঠোর পরিশ্রম বা অফিসিয়াল সময়ের অধিক সময় কাজ করতে এতটুকু দ্বিমত করেন না নিজের সাথে। একজন নারী হিসেবে কাজের পরিবেশ বলতে কাকলী বলেন, ‘গৃহ বা বাহির যেখানেই বলেন না কেন একটা অনুকূল আর প্রতিকূল আবহের সাথে জড়িয়ে থাকবেই। এটা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত এর সময়েও ছিল, সুফিয়া কামালের সময়ও ছিল, জাহানারা ইমামের সময়ও ছিল, আজ আমদের সময়েও আছে। এটা থাকবেই। স্থান কাল পাত্রভেদে নিজের যোগ্যতা, বিচক্ষণতা দিয়ে জয় করে নিতে হবে। তারপরও পারিপার্শিকতা কথাটি যদি ধরি তবে বলব, সময়ের পটপরিবর্তন হয়েছে। এখন আর ছেলে বা মেযে বলে কোনো দ্বিপাক্ষিকতা নেই কি ঘরে কি বাহিরে কিবা কর্মপরিসরে। সবাই যেমন স্বাধীন তেমনি সবাই সমান। ছেলে বা মেয়ে সে যেই হোক কাজের পরিবেশ তাকে মানিয়ে নিতে হবে অতপর সে পরিবেশে নিজের দক্ষতার সাক্ষর রাখতে হবে। কাজ ও কাজের দক্ষতাই এগিয়ে নিবে যে কাউকে, ছেলে বা মেয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতায় নয়। সময়ে বয়োকনিষ্টদের প্রতি জান্নত আরা’র কথা, ‘সবার আগে নিজের পথ ঠিক করতে হবে যে সে কি করতে বা কি হতে চায় অথবা আজ থেকে ২ ৪ ৬ বছর পর সে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চায়। বিশেষ করে প্রত্যেককে পড়াশোনা করা অবস্থাই ঠিক করতে হবে সে ভবিষ্যতে কি করবে। সে মাফিক তাকে একটু একটু করে এগুতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। আগের সময় আর এখন সময় এক নয়। আগে আমরা অনেক সুযোগ পেতাম না যা এখন সহজে ঘরে বসেই পাওয়া যায়।’