সাগরে ১০ ট্রলারসহ ৩৫ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুরা আবারো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। শুক্রবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্নস্থানে মাছ শিকাররত ট্রলারগুলোতে গুলিবর্ষণ করে জলদস্যুরা অন্তত ১০টি ট্রলারসহ ৩৫ জন মাঝিমাল্লাকে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গেছে। অপহরণের পর ট্রলার মালিকদের কাছে ফোনে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, শুক্রবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্নস্থানে অন্তত ১৫টি ট্রলারে গুলিবর্ষণ করেছে জলদস্যুরা। এরমধ্যে ৫টি ট্রলারের জেলেরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জলদস্যুদের কবল থেকে কোন মতে পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকি ১০টি ট্রলার মাঝিমাল্লাসহ অপহূত হয়েছে। তবে প্রত্যেক ট্রলার থেকে ৩/৪ জন করে জেলে অপহরণের পর বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপহূত জেলেদের মধ্যে মাঝিসহ (জেলে সর্দার) গুলিবিদ্ধরাও রয়েছেন। মাঝিমাল্লাসহ অপহূত ট্রলারগুলো হল কক্সবাজার সদরের খুরুস্কুলের নাজমুল হুদা লেডু কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি ইফরান, এফবি মোবারেকা ও এফবি জেসমিন, তার ভাই হাজী আবু তাহেরের মালিকানাধীন এফবি আল হোসাইন, শহরের টেকপাড়ার আবু সুলতান নাগু কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি তাসনিম, ফিশারীঘাট এলাকার রহমত আলী বদরুর মালিকানাধীন এফবি নয়ন, পেশকারপাড়ার ফজল কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি ভাই ভাই, চট্টগ্রামের হাজী মোহাম্মদ আলীর মালিকানাধীন এফবি মোগলটুলি-৩ ও বাঁশখালীর নুরুল আবছারের মালিকানাধীন এফবি জাবেদুল ইসলাম। মোস্তাক আহমদ জানান, ডাকাতের হাতে গুলিবিদ্ধ আবদুল হক নামের এক ট্রলারমাঝিকে (জেলে সর্দার) বরিশাল হাসপাতালে এবং গুলিবিদ্ধ অপর জেলে মকবুল আহমদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এফবি ভাই ভাই ট্রলারের মালিক শহরের পেশকারপাড়ার ফজল কোম্পানী জানান, গুলিবিদ্ধ ৪ জেলেসহ তার ট্রলারটি অপহরণ করার পর মোবাইল ফোনে আট লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। মোস্তাক আহমদ জানান, অপহূত ট্রলারসহ জেলেদের তালিকা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ট্রলার মালিক সমিতির নেতারা জলদস্যু আটকে ব্যর্থতার জন্য কোস্টগার্ডকে দায়ী করেন। ট্রলার মালিকরা অপহূত মাঝিমাল্লাদের উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালানোরও দাবি জানান।