মিলানের হতাশার রাতে জুভ-নাপোলির জয়
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪৩
সিরিএ তে গত শনিবার নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হয়ে শীর্ষে থাকা রোমার থেকে নিজেদের পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে এনেছে জুভেন্টাস ও নাপোলি। অন্যদিকে ফিওরেনটিনার কাছে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে হতাশ করেছে এসি মিলান।
মঙ্গলবার রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়নস লীগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জুভেন্টাসকে জিততেই হবে। নতুবা লড়াই থেকে ছিটকে পড়বে ইতালিয়ান জায়ান্টরা। বাঁচা মরার সেই ম্যাচে মাঠে নামার আগে নিজেদের ভালোভাবেই ঝালিয়ে নিল ওল্ড লেডিরা। ফরাসি পল পোগবার ৭৭ মিনিটের গোলে পারমার বিপক্ষে ১-০ গোলে প্রতিপক্ষের মাঠে জয় তুলে নিয়েছে সিরি এ চ্যাম্পিয়নরা। এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিল জুভেন্টাস। এই জয়ে এবারের লীগে নবম জয় দিয়ে জুভ কিছু সময়ের জন্য দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসলেও দিনের অপর ম্যাচে নাপোলি সান পাওলোতে কাটানিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করলে এন্টোনিও কান্তের দল আবারো তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। নাপোলির পক্ষে গোল দুটি করেছেন হোসে ক্যালেয়ন এবং মারেক হামসিক। রোমার বিপক্ষে এ্যাওয়ে ম্যাচে ২-০ গোলে পরাজয়ের পরে এই ম্যাচটিও নাপোলির তৃতীয় জয় ছিল। এই জয়ের পরে রাফায়েল বেনিতেজের দলও বুধবার মার্সেইর বিপক্ষে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলতে নামার আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছে। তার উপর ফ্রান্সের মাটিতে মার্সেইকে দুই সপ্তাহ আগে ২-১ গোলে হারানোর সুখস্মৃতিতো রয়েছেই।
রবিবার টোরিনোর বিপক্ষে জিততে পারলে রোমা লীগ টেবিলে সুস্পষ্ট পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে যাবে। আর একইসাথে রুডি গার্সিয়ার দল সিরি আ লীগে টানা ১১টি ম্যাচ জয়ের সর্বকালের সেরা রেকর্ড অর্জন করবে।
লীগ টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা মিলান এই নিয়ে পাঁচটি পরাজয়ের মুখ দেখলো। আর এই পরাজয়ে কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি আরো একবার চাপের মুখে পড়লেন। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লীগের ম্যাচ খেলতে বার্সেলোনায় যাবে মিলান। সান সিরোতে দুই সপ্তাহ আগে কাতালানদের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিলান।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে গ্রুপ-বি’তে টেবিলের শীর্ষে থাকা রিয়ালের তুলনায় সাত পয়েন্ট এবং গালাতাসারের তুলনায় দুই পয়েন্ট পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জুভেন্টাস। হাতে রয়েছে তিনটি ম্যাচ। আর তাই এটা অন্তত স্পষ্ট যে কন্টের চোখ এখন পুরোটাই মঙ্গলবারের তুরিনের ম্যাচকে ঘিরে। শনিবারের ম্যাচে জুভ কোচ অভিজ্ঞ আন্দে পিরলোকে বিশ্রামে রেখে মূল একাদশ সাজিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে ক্লডিও মারিসিজিওর স্থানে পিরলোকে নামানো হয়। অন্যদিকে আক্রমণভাগে কার্লোস তেভেজ এবং সেবাস্টিন গিওভিনকোকে বদল করে ফ্যাবিও কুয়াগি¬য়ারেলা এবং ফার্নান্দো লোরেন্টকে নামানো হয়। পুরো ম্যাচেই মোটামুটি প্রাধান্য ছিল জুভেন্টাসেরই। কিন্তু ম্যাচে এগিয়ে যেতে ৭৭ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে সফরকারীদের। কুয়াগি¬য়ারেলার লব থেকে এন্টোনিও মিরান্টের শট পোস্টে লেগে ফেরত আসলে সেই বল থেকে জুভেন্টাসকে এগিয়ে দেন পল পোগবা।
অপর ম্যাচে নাপোলিও শুরুটা বেশ দাপটের সাথেই করেছিল। ম্যাচের শুরুতেই গঞ্জালো হিগুয়েইনের হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। কিন্তু ১২ মিনিটে বাম দিক থেকে একটি আক্রমণ থেকে বাম পায়ের জোড়ালো শটে দলকে এগিয়ে দেন ক্যালেয়ন। ১৯ মিনিটে ক্যালেয়নের বাড়িয়ে দেয়া কল থেকে হামসিকের পা হয়ে হিগুয়েনের কাছে বল আসলে তার থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ব্যর্থ হন এই আর্জেন্টাইন। কিছুক্ষণ পরে হামসিক লোরেনজো ইনসিগনের শর্ট পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।-বাসস