৮ ভাগ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কমে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরে

দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং সমস্যা এবং সর্বোপরি দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানির অবস্থা নিম্নমুখী। চট্টগ্রাম বন্দরে পরিসসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত তিন মাসে পণ্যের আমদানি ও রপ্তানি পূর্ববর্তী তিন মাসের তুলনায় অনেক কমে গেছে। একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কমে গেছে শতকরা ৮ ভাগ। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মতে দেশে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। বিনিয়োগ করার জন্য কতিপয় পূর্বশর্ত যেমন স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিদ্যুত্-গ্যাসসহ পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা, ব্যবসাবান্ধব ব্যাংকিং খাত না থাকাতে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুব উল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ব্যাংকে টাকা থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত বিনিয়োগকারীরাও টাকা পায় না। পণ্যের ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রেও জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাছাড়া ঋণের উচ্চ সুদ কখনো ব্যবসাবান্ধব নয়। তাই অনেক ক্ষেত্রে এ বিনিয়োগ করে ঋণ খেলাপী হতে দেখা যায়। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, গত কয়েক মাস ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় অনেকে কোন বড় ধরনের বিনিয়োগে হাত দিচ্ছে না। অনেকের মতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বিনিয়োগ করবে কিনা। আবার চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও বিদ্যুত্ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধান হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী শিল্প কারখানা স্থাপন করলেও বিদ্যুত্ ও গ্যাসের অভাবে চালু করতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ সফরে চট্টগ্রামে এসে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ময়দানে সুধী সমাবেশে চট্টগ্রামে গ্যাস সমস্যা সমাধানে কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের হিসেব অনুযায়ী দেখা যায়, গত আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে মোট তিন লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টিইইউএস। অথচ পূর্ববর্তী মে থেকে জুলাই পর্যন্ত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল চার লাখ ২৫ হাজার ৮০৪ টিইইউএস। এতে দেখা যায়, গত তিন মাসে পূর্ববর্তী তিন মাসের তুলনায় হ্যান্ডলিং কমে গেছে শতকরা ৮ ভাগ। বন্দরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়, প্রতি বছর রোজা ও কোরবানি ঈদ পূর্ব সময় সাধারণত আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। সাথে সাথে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেড়ে যায়। একইভাবে বন্দরে জাহাজের সংখ্যাও বেড়ে যায়। বন্দরের হিসাব অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি কমার সাথে সাথে গত তিন মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসাও কমে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত জাহাজ এসেছিল ২৩৮টি। অপরদিকে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জাহাজ আসে ২০২টি। বন্দরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আমদানি-রপ্তানির এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। বন্দরে প্রতিবছর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং শতকরা ১০ থেকে ১২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে আসছিল। অপরদিকে কাস্টমসের পক্ষ থেকেও তাদের শুল্ক আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে আশংকা করা হচ্ছে।