কক্সবাজারের চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালীর ৪নং ওয়ার্ডের খালকাছা পাড়া দারিদ্র্যে ঘেরা একটি গ্রাম। সেই গ্রামের দিনমজুর জয়নাল আবেদীন ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে আসকর আলী। শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান হলেও শিশুকাল থেকে পড়ালেখা খুব টানতো তাকে। তার ইচ্ছে পড়ালেখা করে সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য হয়ে দেশের সেবা করার।
তাই ৫ম শ্রেণিতে পড়াকাল থেকে নিজের স্বপ্ন পূরণে রিকশার চাকায় ভর করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগুচ্ছে আসকর। এভাবে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়ে এখন পড়ছে উপকূলীয় বদরখালী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে, মানবিকে।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক আবু তৈয়ব জানান, খবর নিয়ে জেনেছি, জয়নাল-মনোয়ারার তিন ছেলে, দুই মেয়ের মাঝে তৃতীয় আসকর আলী। তার বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে। বাবা-মা ও ছোট দুই বোনকে নিয়ে আসকরের পৃথিবী। বাবা বদরখালী বাজারের দোকানে পানি সরবরাহ ও মা কয়েকটি রেস্তোরায় মরিচ পেশার কাজ করেন।
বাবা-মায়ের এ আয়ে তিনবেলা খাবার আশা করাও দূরাশা। তাই শিশুবেলা থেকেই পরিবারের আয়ে যোগান দিতে রিকশার ওপর ভর করে আসকর আলী।
আসকর আলীর বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। কিন্তু তাদের তিন বেলা খাবারই ঠিক মতো যোগাড় করতে পারি না। তাই পড়ালেখার খরচ দেওয়া স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু ছেলেটি ঠান্ডামাথায় সব হজম করে ১০ বছর বয়স থেকেই রিকশা চালিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি নিজের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে ছোট দুই বোনকেও পড়াচ্ছে। ছেলেটি সেনাবাহিনীতে চাকুরি করতে চায়। আমাদের দোয়া তার ওপর রয়েছে। আল্লাহ অবশ্যই তাকে সফল করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’
বদরখালী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আফসারুজ্জামান বলেন, ‘আসকর আমাদের সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অনেক বিত্তবানের ছেলেরা সুযোগ পেলেও পড়া-লেখা করে না। আর সেখানে আসকর নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তার একাগ্রচিত্ততা দেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ আসকরকে উপবৃত্তির আওতায় এনে সহযোগিতা করছে।’
আরও পড়ুন: ফুটবল কন্যাদের কলসিন্দুর-তারাকান্দা সড়কের বেহাল দশা
আসকর আলী বলে, ‘গরীব ঘরে জন্ম হলেও পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই আমি। এ কারণে রিকশা চালিয়ে আমার লেখাপড়ার খরচ যোগাই। পাশাপাশি ছোট বোনদেরও শিক্ষার আলো দিতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আমার এ প্রচেষ্টাকে অনেকে তাচ্ছিল্য করেছেন। এসবে আমার কিছু যায়-আসে না। লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেই আমি সফল হবো। এখন মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছি। ১৯ বছর হলেই সেনাবাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় দাঁড়াতে চাই। আমার স্বপ্ন সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে দেশের সেবা করা। লক্ষ্য পূরণে অনুগ্রহ নয় সবার দোয়া চাই।
ইত্তেফাক/নূহু