ছুটির দিনেও ওদের কষ্টের শেষ নেই

‘দাদা আমরা চা বাগানের শ্রমিক (শরমিক) মানুষ, আমাদের ছুটি নাই। আজকে একদিন ছুটি পাইলাম তো ঘরে চোলা জ্বালানির এক টুকরোও কাঠ নেই। তাই কষ্ট করে বন থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে আইছি।’ ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার মৃত্তিঙ্গা চা বাগানের নারী শ্রমিক আরতি ও স্বপ্না। চা শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চা বাগানের নারী শ্রমিকরা চা পাতা উত্তোলন করে সপ্তাহে মাত্র একদিন সাপ্তাহিক ছুটি পান। এর ফাঁক-ফোকরে পুজা বা উত্সব থাকলে পাওয়া যায় ছুটি। ছুটির দিনেও তাদের কষ্টের শেষ নেই। অভাব-অনটনের সংসারে সন্তানাদিদের নিয়ে দুঃখ কষ্টে চলছে তাদের জীবন। বর্তমানে দৈনিক মাত্র ৬৯ টাকা মজুরি দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত দুরহ। তার উপর জ্বালানি কাঠের তীব্র সংকট। তাই কাঠ সংগ্রহেও তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। গত শনিবার চা বাগানগুলোতে ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্যামা পূজার বন্ধ। বন্ধের সুযোগে দুপুরে মৃত্তিঙ্গা চা বাগানের পার্শ্ববর্তী কালাছড়া বন থেকে যুবতিসহ চা বাগানের নারী শ্রমিকরা দল বেঁধে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেক কষ্টে যোগাড় হয় কিছু কাঠ। সেগুলো আটি বেঁধে মাথায় তুলে প্রায় দুই কি.মি. দূরে নিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। এভাবেই চলছে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের কষ্টের জীবন।