রোনালদোর রেকর্ডের রাত নাকি জুভেন্তাসের ফেরা?

রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠের রেকর্ডকে আরো সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মাঠে নামছে তিন ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে বি গ্রুপ পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা জুভেন্তাস। অন্যদিকে নকআউট পর্বে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় এক পয়েন্টের পাশাপাশি আজ জুভেন্তাস স্টেডিয়ামে রিয়াল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চোখ থাকবে দারুণ এক রেকর্ডের দিকেও। আজ রাতে মাত্র একটি গোল হলেই এই পর্তুগীজ টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের ব্যক্তিগত রেকর্ডটি ছুয়ে ফেলবেন। এদিকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে একই রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে নামবে বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার সিটিও। তিন ম্যাচে সাত গোল নিয়ে রিয়ালের আক্রমণ ভাগের সবচেয়ে কুশলী যোদ্ধাটি এই মুহূর্তে টুর্নামেন্টের চলতি আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার। তবে গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ আট গোলের রেকর্ডটি যৌথ ভাবে নিজেদের দখলে রেখেছেন সাবেক তিন স্ট্রাইকার রুদ ফন নিস্টলরয় (২০৪৫-০৫), ফিলিপ্পো ইনজাগি ও হার্নান ক্রেসপো (দু’জনেই ২০০২-০৩)। অর্থাত্ টুর্নামেন্টের গত আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদোর প্রয়োজন মাত্র একটি গোল। শুধু রোনালদো নন, ব্লাঙ্কোসরা এগিয়ে আছে আরো একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড বিবেচনাও। চারটি গোলে সাহায্য করে গোলে সহযোগিতার দিক থেকে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন আরেক মাদ্রিদ তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। তবে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে দারুণ ছন্দে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার গ্যারেথ বেলই আজ হয়তো খেলবেন মারিয়ার জায়গায়। তবে এই টুর্নামেন্টে প্রথম তিন ম্যাচে বারবারই একাদশ বদল করা রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি শেষ পর্যন্ত কাকে খেলাবেন সেটা বলা যাচ্ছে না এখনও। এফসি কোপেনহেগেনের বিরুদ্ধে খেলা দুই ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে এবং ড্যানি কারবাজালের বদলে আজ হয়তো অ্যানচেলোত্তি আস্থা রাখবেন সার্জিও রামোস এবং আলভারো আরবিওলার উপরই। সঙ্গে থাকবেন পেপে এবং মার্সেলো। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত ম্যাচে যাই হোক, ম্যাচের আগে জুভেন্তাসের শক্তি-দুর্বলতা জানতে আনচেলোত্তির চেয়ে ভালো কাউকে পাওয়া একেবারেই সম্ভব নয় রিয়ালের পক্ষে। কারণ, খেলোয়াড় হিসেবে এসি মিলানের হয়ে দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা এই ইতালিয়ান জুভেন্তাসকে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ পর্যন্ত কোচিংও করিয়েছেন। সুতরাং, সবকিছু ভেবে চিন্তেই শেষ পর্যন্ত একাদশ গড়বেন তিনি। তিন ম্যাচে পূর্ণ নয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা রিয়ালের যদি ভরসার জায়গা হয় তাদের সামপ্রতিক পারফরম্যান্স, জুভেন্তাস সেখানে এগিয়ে আছে অতীত রেকর্ড অনুসারে। শুধু রিয়াল নয়, স্প্যানিশ দলগুলোর বিরুদ্ধে তুরিনোর ওল্ড লেডির রেকর্ড বরাবরই দারুণ। শতবছরের পুরনো ক্লাবটি তাদের ইতিহাসে মাত্র দু’বার হেরেছে কোন স্প্যানিশ ক্লাবের বিরুদ্ধে। আর রিয়ালের বিরুদ্ধে দেশে তাদের সর্বশেষ হারটি এসেছে ১৯৬২ সালে! এরপর তুরিনোতে সর্বশেষ পাঁচটি ম্যাচে রিয়ালকে পাঁচবারই হারিয়েছে তারা। এদিকে শিরোপাধারি বায়ার্ন মাঠে নামছে তুলনামূলক বিচারে দুর্বল ভিক্টোরিয়া প্লাজানের বিরুদ্ধে। প্রথম লেগে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্লাজানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয়া বায়ার্ন আজ ড্র করলেও নিশ্চিত করবে নকআউট পর্ব। ঘরের মাঠে প্লাজানের প্রায় অজেয় রেকর্ড রিবেরি-রোবেনদের বিরুদ্ধে কতটুকু কাজে লাগবে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এদিকে প্রতিপক্ষের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গত বছরের নভেম্বর থেকে জয়ের মুখ না দেখা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আজ মাঠে নামবে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে। আর তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিপক্ষ সিএসকেএ মস্কো। বায়ার্নের পেছনে থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে উত্তরণের জন্য জয় প্রয়োজন সিটিরও। তবে অন্য বড় দলগুলোর চেয়ে তাদের সুবিধা হচ্ছে আজ নিজেদের মাঠ ইত্তেহাদেই খেলতে নামছে তারা।