জিমি রানা জাহিদ পিন্টু নিষিদ্ধ

জাতীয় হকি দলের চার খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করেছে ফেডারেশন। বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়রা হলেন রাসেল মাহমুদ জিমি, গোলকিপার জাহিদ হোসেন, কামরুজ্জামান রানা, ইমরান হাসান পিন্টু। অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এশিয়া কাপ হকিতে জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা মাহবুব হারুন। আর শোকজের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হওয়ায় আম্পায়ার সেলিম লাকির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। গতকাল তেজগাঁও বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলের দোতলায় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হকি ফেডারেশনের সভায় খেলোয়াড় কোচের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত হয়। ফেডারেশন সভাপতি ইনামুল বারী সভার সিদ্ধান্তের কথা জানান। খেলোয়াড়দের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জিমি জাতীয় দল থেকে তিন বছর এবং ঘরোয়া হকি থেকে দুই বছর, জাহিদ হোসেনকে জাতীয় দল থেকে তিন বছর এবং ঘরোয়া হকি থেকে দুই বছর, ইমরান হাসান পিন্টুকে জাতীয় দল থেকে তিন বছর এবং ঘরোয়া হকি থেকে দুই বছর এবং কামরুজ্জামান রানাকে জাতীয় দল থেকে দুই বছর এবং ঘরোয়া হকি থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সভা শেষে ফেডারেশন সভাপতি নিজেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত। কী কারণে এসব খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সে প্রসঙ্গে ফেডারেশন সভাপতি ইনামুল বারী বলেন, ‘যা করা হয়েছে সেটা জাতির স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে। এটা আনন্দে করা হয়নি।’ তিনি জানিয়েছেন নিষিদ্ধরা কেউ আপীল করতে পারবেন না। গত আগস্টে এশিয়ান গেমস হকিতে অংশগ্রহণ করতে মালয়েশিয়া গিয়েছিল হকি দল। সেখানে বাংলাদেশ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম হয়েছে। সেখানে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এশিয়া কাপের সময় শৃংখলা বজায় না রাখাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। কেন ব্যর্থ হয়েছে, মালয়েশিয়ায় কী ঘটেছিল তা জানতে ফেডারেশন একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটি গঠন করে, সাথে ম্যানেজার এবং পাকিস্তানি কোচ নাভিদ আলমের রিপোর্ট গ্রহণ করে। সব রিপোর্ট নিয়ে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফেডারেশন সভাপতি ইনামুল বারী বলেছেন, ‘আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবার রিপোর্ট পুংখানুপুংখ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জানি জাতীয় দলের জন্য, দেশের জন্য কঠিন সময়। কারণ চারজনকে বাদ দিয়ে দল গঠন করা কঠিন। তারপরও নতুন দল থেকে খেলোয়াড় নিয়ে সেটা পূরণ করা হবে। এই গ্যাপ পূরণ করা কঠিন।’ ফেডারেশন সভাপতি বলছেন, ‘আমরা এখন ভালো খেলোয়াড় খেলাচ্ছি। নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে।’ জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড় মাহবুব হারুন। তাকে আর কখনো জাতীয় দলের দায়িত্ব দেয়া হবে না। হারুনের খেলোয়াড়ী ক্যারিয়ার শেষ করে হকির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। হকিতে তার অবদানের কথা উল্লেখ করে শাস্তি বাড়ানো হয়নি। অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কোনো শাস্তি দেয়া হয়নি দলের কোচ নাভিদ আলমকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেডারেশন সভাপতি বলেন, কোচকে সতর্ক করা হয়েছে। সাথে যোগ করেন টিম ম্যানেজমেন্টকেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব শাস্তি দেয়া প্রসঙ্গে ফেডারেশন সভাপতি কাল বলছিলেন, ‘এই খেলোয়াড়রা যখন সিঙ্গাপুর থেকে সাফল্য এনেছিল, তখন আমার বাসায় দাওয়াত করেছিলাম। এখন তাদের বিরুদ্ধেই শাস্তি ঘোষণা করতে গিয়ে আমার কষ্টই হচ্ছে।’