সর্বদলীয় সরকারে অংশ নেবে না বিএনপি, নির্বাচনেও যাবে না
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:১০
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সর্বদলীয় সরকারে বিএনপি কখনও অংশ নেবে না, এমনকি এই ধরনের সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেও যাবে না। গতকাল সোমবার বিকালে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে শর্তহীন সংলাপে বসতে বিরোধী দল এই ?মুহূর্তেই প্রস্তুত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী একতরফাভাবে নিজেদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বদলীয় সরকার গঠনের উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিকে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, সমঝোতার পথ বন্ধ করছেন। প্রধানমন্ত্রী জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।
ফখরুল বলেন, মহাসচিব পর্যায়ে সংলাপের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবে বিরোধী দলীয় নেতা একমত হয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিলেন তাতে সেই সমঝোতার রাস্তাও বন্ধ হয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, সংলাপে আমাদের কোনো শর্ত নেই।
‘হরতাল প্রত্যাহার করলে সংলাপ হবে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ফখরুল বলেন, শর্ত দিয়ে আলোচনা হতে পারে না। আমি সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্টভাবে তাকে (সৈয়দ আশরাফকে) চিঠি দিয়ে সংলাপ শুরুর অনুরোধ জানিয়েছিলাম, এখনো জবাব পাইনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মুখে সংলাপের ফানুস উড়িয়ে জনগণের আন্দোলনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে সরকার মানুষ হত্যা করছে। যেসময় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংলাপ-সমঝোতা জরুরি, তখন সরকার নিজেদের গোয়ার্তুমি-অহমিকা বজায় রাখতে বিরোধী দলের আন্দোলন দমনে নিষ্ঠুর হার্ডলাইন গ্রহণ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত ও ঘোলাটে করে তুলছে। এখন সর্বত্র মানুষের মনে চাপা আতঙ্ক।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ফখরুল বলেন, খবর বেরিয়েছে-একটি দেশ বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের জন্য একটি দলকে এক হাজার কোটি রুপী দিতে যাচ্ছে। এর আগে ইকোনমিস্ট টাইমসে বলা হয়েছিল, গতবারও ওই দলটিকে ৮শ কোটি রুপী দেয়া হয়েছিল। সুতরাং আমাদের এই সন্দেহ অমূলক নয় যে, বাংলাদেশের নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক চক্রান্ত জড়িত।
ফখরুল দাবি করেন, রবিবার থেকে গতকাল বিকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে ১৮ দলের ২ জন নিহত, ৫৪৭ জনের বেশি গ্রেপ্তার এবং ১ হাজার ৮৯০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, কেন্দ ীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।