রানা প্লাজা ধসে নিহত ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ ৩২২ জনের ১৫৭ জন শনাক্ত

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিহত এবং অজ্ঞাত পরিচয় ৩২২ জনের মধ্যে ১৫৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ন্যাশনাল ডিএনএ ফরেনসিক প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে (এনএফডিপিএল) ডিএনএ পরীক্ষার প্রথম পর্যায়ের রিপোর্টের মাধ্যমে এই পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল সোমবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সচিব মিকাল সিপার এ তথ্য জানান। বাকি ১৬৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পরবর্তী পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে বলে তিনি জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব বলেন, ধসের ঘটনায় এক হাজার ১৩৪ জন নিহত হলেও ৩২২ মৃতদেহের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। দাফনের আগে মৃতদেহের দাঁত ও হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করে রাখে ঢাকা মেডিক্যালের এনএফডিপিএল। ডিএনএ নমুনার জন্য ৩০ এপ্রিল থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৫৪০টি পরিবারের ৫৪৮ জনের কাছ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি লাশের বিপরীতে স্বজন দাবিদার ৫৪৮ জনের ডিএনএ রূপরেখার মিল-অমিল খুঁজতে হবে বা ফাইল হবে। অর্থাত্ ৩২২টি লাশের বিপরীতে ফাইল হবে এক লাখ ৭৫ হাজার ২৬৬টি। এনএফডিপিএলের জেনো প্রুভ সফটওয়্যারের ক্ষমতা অনেক কম হওয়ায় এই ৩২২টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে অন্তত ৩ বছর লাগবে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনটেলিজেন্স (এফবিআই) থেকে এনএফডিপিএল ডিজাস্টার ভিকিটম আইডেন্টিফিকেশন বা ডিভিআই নামে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন সফটওয়্যার সংগ্রহ করে। গত মাস থেকে এই সফটওয়্যার দিয়ে ডিএনএ নমুনার ফাইলগুলো ক্রস ম্যাচিং কাজ শুরু করে। মাত্র দেড় মাসেই প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষার কাজ শেষ হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব বলেন, পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ১৫৭ জনের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের মৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারবেন জুরাইন কবরস্থানে। সেখানে প্রতিটি কবরের জন্য একটি ডিএনএ নম্বর রয়েছে। এনএফডিপিএল থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে ডিএনএ নম্বর রয়েছে। এই নম্বর ও কবরের উল্লিখিত নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করতে পারবেন নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা।