রেলওয়ের ২২৭ পয়েন্টে নাশকতার আশংকা
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২২
সামপ্রতিক সময়ে ট্রেনের বগিতে আগুন, ভাংচুর ও রেললাইন উপড়ে ফেলার ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের ৩৯ টি জেলার রেললাইন ও রেল স্টেশন নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি জেলার রেলওয়ের ২২৭টি পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি নাশকতার আশংকা করা হচ্ছে। ওই পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদানে ইতিমধ্যে ৯০৮ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ১৫টি জেলা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, লালমনিরহাট, বগুড়া, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও সিরাজগঞ্জ।
জানা গেছে, বিরোধী জোটের নানা কর্মসূচিতে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তুচ্ছ কারণে ট্রেনের বগি ও রেলওয়ের স্থাপনায় ভাংচুর, আগুন এমনকি ট্রেনের যাত্রীদের লক্ষ্য করেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাস দুয়েক আগে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ইটের আঘাতে প্রীতি দাশ নামে এক প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নাশকতা হতে পারে এমন কয়েকটি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে। প্রাথমিক অবস্থায় ৩৯টি জেলার রেললাইন ও রেল স্টেশনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়। এরমধ্যে ১৫ টি জেলার ২২৭টি পয়েন্টকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ওই ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই জরুরি ভিত্তিতে ওই পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। পরে রেলওয়ের মহাপরিচালক কার্যালয় ২২৭টি পয়েন্টে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়ে আনসার মহাপরিচালকের কার্যালয়ে চিঠি দেয়।
আনসার সদর দফতরের উপমহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান (অপারেশন) জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের চাহিদা মতো ২২৭টি পয়েন্টে আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। হরতাল কিংবা অবরোধ কর্মসূচির আগের দিন থেকে আনসার সদস্যরা ওই সব পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবে।
আনসার সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) পবিত্র কুমার সাহা বলেন, ১৮ দলীয় জোটের ২৭ অক্টোবরের হরতালের সময় ৯০৮ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এই হরতালের আগের দিন অর্থাত্ গত রবিবারও একই সংখ্যক আনসার সদস্য ওই পয়েন্টগুলোতেমোতায়েন করা হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সীমিত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে রেলওয়ের বিশাল এলাকায় নিরাপত্তা প্রদান করা যায় না। নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে থাকে বিশাল এলাকা। এ সুযোগে পিকেটাররা রেলওয়ের স্থাপনায় হামলা ও ভাংচুর করে। উপড়ে ফেলে লাইন।
রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হোসেন বলেন, দেশব্যাপী রেললাইন ও রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে জনবল প্রয়োজন তা পুলিশের নেই। তারপরেও সীমিত জনবল দিয়ে রেলওয়ের নিরাপত্তা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে।