গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা করার খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে রায় এ ঘোষণা দেন। বিদ্যমান তিন হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির তুলনায় নতুন অনুমোদিত মজুরির বৃদ্ধি প্রায় ৭৭ শতাংশ। অবশ্য এতে মালিক পক্ষ রাজি হয়নি। মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি সদস্য আরশাদ জামাল দিপু ও স্থায়ী সদস্য কাজী সাইফুদ্দিন এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদানে থেকে বিরত থাকেন। তারা খসড়া প্রস্তাবে স্বাক্ষরও করেননি। তবে মজুরি বোর্ডের ছয় সদস্যের মধ্যে বাকি সদস্যরা পাঁচ হাজার ৩০০ টাকার প্রস্তাবে সম্মত হওয়ায় তা খসড়া হিসেবে অনুমোদন পেল। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রশ্নে গতকাল গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি এই খাতের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে বলেন, ৫ হাজার ৩০০ টাকা দেয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। আজ মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি। প্রস্তাব অনুযায়ী, মূল মজুরি তিন হাজার ২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ভাতা এক হাজার ২৮০ টাকা, চিকিত্সা ভাতা ৩২০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা ও খাদ্য ভর্তুকি ৩০০ টাকা। গতকাল মজুরি বোর্ডের নবম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বোর্ড চেয়ারম্যান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিক পক্ষ আট হাজার প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত তারা পাঁচ হাজার ৩০০ টাকায় সম্মত হয়েছেন। তবে অনেক চেষ্টার পরও মালিক পক্ষ এতে একমত হননি। তারা খসড়া প্রস্তাবে স্বাক্ষর না করে চলে গেছেন। কিন্তু শ্রম আইন অনুযায়ী, বেশিরভাগ সদস্যের মতের উপর ভিত্তি করে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি এখন শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। গেজেট আকারে ছাপা হওয়ার পর সেখানে ১৫ দিন আপত্তি গ্রহণের জন্য থাকবে। এসব বিষয় নিয়ে মজুরি বোর্ড আবার বৈঠকের পর চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করে শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সভা শেষে মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আর একটু বেশি চেয়েছি। তবুও তিন বছরের মাথায় গঠিত বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত অনেক বিচার বিবেচনা করে মেনে নিয়েছি। আশা করি মালিক পক্ষও মেনে নেবেন।’ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চূড়ান্ত মজুরি ঘোষণা হয়ে গেজেট প্রকাশ হতে আরো প্রায় এক মাস সময় লাগবে। কিন্তু এর আগে মালিক পক্ষ বলেছেন, মজুরি যখনই ঘোষণা হোক নভেম্বর থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি দেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে এখনো জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে মজুরি বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য ড. কামাল উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, কার্যকর নভেম্বর থেকে হবে কি না—এটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যেহেতু মালিক পক্ষ আজকের প্রস্তাবে সম্মতি দেননি, তাই এ বিষয়ে তাদের আপত্তি দেয়ার সুযোগ রয়ে গেছে। তিনি বলেন, তিন বছরের মাথায় ৭৬ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে ৫ বছরের মাথায় ৮১ শতাংশ বেড়েছিল। সেই হিসেবে বর্তমান প্রস্তাবে ভাল বেড়েছে। মজুরি বোর্ডের গতকালের সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক পক্ষের স্থায়ী সদস্য ফজলুল হক মন্টু। এছাড়া বৈঠকে সদস্যদের বাইরে বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের খসড়া প্রত্যাখ্যান এদিকে মজুরি বোর্ডের সভা চলাকালে এর মূল ফটকের সামনে আট হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কয়েকটি সংগঠন। পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি ঘোষণার পর এটি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছে একাধিক সংগঠন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, শ্রমজীবী নারী ঐক্য, ১২টি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনসহ কয়েকটি সংগঠন এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।