পথে ঘাটে
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৩
ঢাকা জজ কোর্ট। আইনজীবীদের বসার বড় হলঘর। চওড়া চওড়া টেবিলের দুই পাশে মুখোমুখি বসেছিলেন তারা। হরতাল ছিল বলে জনসমাগম কম। টেলিভিশনে বেলা তিনটার খবর হচ্ছে। বেশিরভাগ চোখই সে দিকে।
দরজা দিয়ে ঢুকে প্রথম টেবিল আর পার হওয়া গেল না। কান সজাগ। পা স্থির।
সাদা শার্টের উপর কালো টাই। ভদ্রলোকের সম্ভবত একটি দাঁতও নেই। কথাগুলো ঠোঁট থেকে বের হচ্ছে। আধো আধো। বলায় উত্সাহ আছে। পাশের চেয়ারে উনার সমবয়সী একজন। সামনের কয়েকটি চেয়ারে অনেক কম বয়সী। পরনের পোশাক বলে দিচ্ছে তারা আইনজীবী।
মাথা আর শরীর একটু সামনে ঝুঁকিয়ে ভদ্রলোক বলছেন, পাওয়ার। পাওয়ার মানে কি বোঝ? ক্ষমতা। ক্ষমতা থাকলে সব কিছু করা যায়। হাসিনা যে ক্ষমতায় থেকে ভোট করবে সে ভোট কি হবে? ব্যালট আর ব্যালটের জায়গাতে থাকবে না। বাক্সগুলো সব হারায় যাবে। তখন আঙ্গুলের ইশারায় ভোট হবে। আঙ্গুল যা চাইবে তাই হবে।
অনেকটা স্কুলে ক্লাস নেয়ার মতো করে বলে চলেছেন। আর সামনের কজন শুনে যাচ্ছেন।
- হাসিনা ভোট করবে ঠিকই। ঐ ভোটে তার অধীনের দলগুলো সব থাকবে। বিএনপি যদি নির্বাচনে যায় আর হাসিনা যদি ক্ষমতায় থাকে, তবে কি হবে? ব্যালটে ইচ্ছে মতো ভোট পড়বে।
পাশের জন কথায় যোগ দিলেন।
- চাইলে ব্যালট বাক্স হারায়ে ফেলতে পারে। আবার চাইলে ব্যালট বাক্স নিজের মতো ভরেও নিতে পারে।
আগের জন আবার শুরু করলেন।
- এই কদিন আগে মজীনা দিল্লী গেছিল। জান? কেন গেছিল জান? ওদের তো ব্যবসা আছেই। সাথে আছে রাজনীতি। এই রাজনীতি করতেই সে দিল্লী গেছিল। ভোটের পলেটিক্স নিয়ে আলোচনা করতেই সে দিল্লী গেছিল।
একটু থেমে উনি আবার শুরু করলেন।
- হাসিনা-খালেদা দুই জনই দুই জনের অবস্থান থেকে বিপদে আছে। ওদের চিন্তার শেষ নেই। এত বড় খেলায় চিন্তা থাকবে না?
নতুন একজন আলোচনায় যোগ দিল।
- আবার আন্দোলন আসছে। সামনের সপ্তাহে আবার আন্দোলন আসছে। এইবার বিএনপি আর আওয়ামী লীগ লাগবে। দুই দল লাগবে আর চাল ডাল তেলের দাম বাড়বে। এইবার কিন্তু জিনিসের যে পরিমাণ দাম বাড়বে তা আর কমানো যাবে না।
প্রথম ভদ্রলোক আবার তার শিক্ষকসুলভ আচরণ দিয়ে শুরু করলেন।
- জামায়াত হলো ডেঞ্জারাস। আওয়ামী লীগ কিন্তু বিএনপিকে ভয় পায় না; কিন্তু জামায়াতকে ভয় পায়। বিএনপিকে ছাড় দেবে; কিন্তু জামায়াতকে দেবে না। কারণ জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ পারবে না। এটা ওরা জানে। আওয়ামী লীগ জানে জামায়াত কতটা ডেঞ্জারাস।
পাশ থেকে বয়সে তরুণ একজন প্রসঙ্গ বদলালো।
- দেশে তো আলবদর, রাজাকার মাত্র ১২-১৩ জন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আর কেউ মনে হয় রাজাকার ছিল না। সারাদেশে মাত্র এই কজন?
- কেন? নতুন যোগ দেয়া ভদ্রলোক জানতে চাইলো।
- এই তো মাত্র এই কজনেরই বিচার হচ্ছে। এর বাইরে কি আর কেউ নেই? তাদের তো নাম-ধাম নেই। কোন খোঁজ-খবরও নেই।
- আছে তাদের খবর আছে। অন্যদের ধরবে পরে। এক এক করে শেষ হোক। আগে বড়গুলারে ধরছে। পরে অন্যগুলারে ধরবে।