হরতালে মানুষ হত্যার তীব্র সমালোচনা সংসদে

বিরোধী দলের নানা কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করা হয় জাতীয় সংসদে। গতকাল সোমবার রাতে সংসদে মহাজোটের সংসদ সদস্যরা দুই দফায় বিরোধী দলের ৬০ ঘন্টা করে হরতাল কর্মসূচিতে হত্যাকাণ্ডসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে সরকারের কাছে দাবি জানান। পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া। এরপর একে একে আলোচনা করেন তোফায়েল আহমেদ, দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবদুল মতিন খসরু, চিফ হুইপ আবদুস শহীদ ও জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল। তারা বলেন, হরতালের নামে ১৯ জন মানুষ হত্যার ঘটনায় ‘হুকুমদাতা’ হিসাবে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে প্রধান আসামি করে সরকারকে মামলা দায়ের করতে হবে। সংঘাত ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। যারা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্বংশ এবং ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিল তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো লাভ হবে না। তোফায়েল আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার হরতালের কারণে ২১ লাখ ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দিতে পারলো না। বিএনপি জোটের বোমার হাত থেকে কেউই রক্ষা পাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলীয় নেতা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েই যাচ্ছেন। চলন্ত যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিদিনই খালেদা জিয়া অসংখ্য মায়ের কোল খালি করছেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতেই একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা নানা চক্রান্ত চালাচ্ছে। সিএনএন অনলাইনের রিপোর্ট তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তানের আইএসআই-এর অর্থায়নে বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীর মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। টার্গেট ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বিরোধী দলের কেন এই হরতাল? শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতিকে আর কতটা অমানবিক ও কদর্য করবেন বিরোধী দলীয় নেত্রী? আর সংঘাত, হরতাল বা সংখ্যালঘু নির্যাতন নয়, সংসদে আসুন। সর্বদলীয় সরকার গঠন করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করি। আবদুল মতিন খসরু বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর মতোই প্রধানমন্ত্রীর পরিণতি করার হুমকি দিচ্ছে এখনই তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? সমঝোতার উদ্যোগের পরও হরতাল ডেকে ১৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এর দায়ভার হরতাল আহ্বানকারী খালেদা জিয়ার। তাকে প্রধান আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়নি সে জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিতে হবে। মইনউদ্দিন খান বাদল বলেন, যাদের সাথে সংলাপ করার কথা বলা হচ্ছে তারা ১৫ আগস্ট কি করেছে? বঙ্গবন্ধুকে নির্বংশ করার চেষ্টা করেছে। এরপর যুদ্ধের মারণাস্ত্র ১২টি গ্রেনেড মেরেছে ২১ আগস্ট। লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা। বিএনপি-জামায়াত নেতারা এখনও এই বলে হুমকি দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর চেয়েও শেখ হাসিনার পরিণতি খারাপ হবে। একদিকে হুমকি দেবেন, অন্যদিকে আলোচনার কথা বলবেন। দু’টো একসঙ্গে চলতে পারে না।