এক ধাপ এগিয়ে
হিমুর
হিমালয়
ছোঁয়া স্বপ্ন
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:১৪
হিমুর স্বপ্ন তিনি দেশসেরা বিতার্কিক হবেন। সেরা ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকারীদের (বিজনেস প্লানার) তালিকায় তার নাম থাকবে। হবেন একজন সফল উদ্যোক্তাও। পাশাপাশি যারা ব্যবস্থাপনা পেশায় আসতে চান তাদেরকে দক্ষভাবে গড়ে তুলতেও কাজে লাগাতে চান নিজের মেধাকে। ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান, প্রতিবেদকের এমন ছোট্ট প্রশ্নের জবাবে উত্তরটা বেশ বড়ই পাওয়া গেল। সংগত কারনেই দ্বিতীয় প্রশ্ন, ‘এর মধ্যে আসলেই কোনটি হবার স্বপ্ন দেখেন?’ স্মিত হেসে হিমুর জবাব, ‘সবগুলোই।’
কথা হচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র হুয়ায়ুন কবির হিমুর সঙ্গে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় হিমুর জন্ম বরিশালের বাখেরগঞ্জে। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পড়ালেখা শেষ করেছেন স্থানীয় স্কুল-কলেজ থেকেই। এরপর দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়ে ভর্তি হন ব্যবস্থাপনা বিভাগে। লেখাপড়ার পাশাপাশি হিমু নিজেকে জড়ালেন বিতর্ক, কুইজসহ নানা প্রতিযোগিতায়। শুরুতে মুখ্য ছিল কেবল অংশগ্রহণই। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বেড়ে চললো ভালো করার তাড়নাও। আর তার ফলও পাওয়া গেল অচিরেই। গত মাত্র আড়াই বছরে হিমু দারুণ ফল করেছেন সুইস-ইয়ুথ বিজনেস প্ল্যান প্রতিযোগিতা, ডেল সোশ্যাল-ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ, স্লাইড মেকিং এন্ড প্রেজেন্টেশন কম্পিটিশন, বেশ কয়েকটি কেস-স্টাডি কম্পিটিশনসহ অনেকগুলো প্রতিযোগিতায়। অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন হার্ভার্ড-ইউনিভার্সিটি এশিয়া কনফারেন্সে (দুবাইতে)। শুধু তাই নয়, বিশ্বখ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ক্লাবের (ওয়াইপিএআইপি) মার্কেটিং এক্সিকিউটিভের দায়িত্বও পালন করছেন হিমু।
বিতার্কিক হিসেবেও জিতেছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার। ব্যক্তিগত এসব অর্জনের পাশাপাশি নিজ ইউনিয়ন গারুরিয়ার ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন হিমু। হিমুর এই অর্জনগুলোই বলছে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখাটা মোটেই পছন্দ নয় তার। বরং স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করতে মরণপণ লড়াই করতেই তার বেশি আগ্রহ। পিতা মোকসেদ আলী সরকার আর মাতা হনুফা বেগমের আদরের এই বড় ছেলে তাই যখন তার স্বপ্নগুলোর কথা একের পর এক বলে যান তখন সেগুলোকে আর কেবল স্বপ্ন মনে হয় না। পরিশ্রমে যার আপত্তি নেই তার স্বপ্ন দেখতেই বা কি দোষ! লেখাপড়ার বাইরের সময়টা কাটে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিয়ে। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক চালচিত্র, নতুন সব সিনেমা আর ক্রিকেট খেলা নিয়ে তাদের সাথে চলে জম্পেশ আড্ডা। আর লম্বা ছুটি পেলে সাথে সাথে বেরিয়ে পড়েন ঘুরতে।