স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিত্সা না পেয়ে হাতুড়ের দ্বারস্থ
মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৪
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিত্সক ও ওষুধ সংকটে গ্রামীণ চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে শত শত রোগী চিকিত্সা নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে চিকিত্সক ও ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। এসব রোগীরা অর্থাভাবে বেসরকারি চিকিত্সা কেন্দ্রে যেতে না পেরে স্থানীয় কবিরাজ ও হাতুড়ে ডাক্তারদের দ্বারস্থ হচ্ছে।
গোদাগাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (প্রেমতলী) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১১ জন মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। এর মধ্যে রিশিকুল ইউনিয়নের মান্ডইল ও মাটিকাটা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার কর্মরত থাকলেও ৯টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই মেডিকেল অফিসার নেই। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডাঃ হাবিবা খাতুনকে পদায়ন করা হলে তিনি কখনো চর আষাড়িয়াদহ এলাকায় যাননি। বর্তমানে ডাঃ হাবিবা খাতুন ডেপুটিশনে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছে। গ্রোগ্রাম উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাঃ আক্তারুজ্জামানকে পদায়ন করা হলেও তিনি বর্তমানে রাজশাহীর স্বাস্থ্য বিদ্যালয়ে এবং দেওপাড়ার নাজিরপুর উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ পীযূষ কুমার কুন্ডু বর্তমানে রাজশাহীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ডেপুটিশনে রয়েছে। উপজেলার রিশিকুল, মান্ডইল, পাকড়ী, গোগ্রাম, বাসুদেবপুর, বালিয়াঘাট্টা, আইহাইয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব ভবন রয়েছে।
মোহনপুরের দিগরাম মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়াই মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, দেওপাড়ার নজিরপুরে সেচের ঘরে ও মাটিকাটার প্রেমতলীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে। এসব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কর্মরত থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে প্রতিদিন কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থাকেন না বলে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের কানাপাড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ৩ শতাধিক রোগী চিকিত্সা নেয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সপ্তাহে ১ দিন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসার কারণে ঐ দিনটিতে রোগীর ভিড় বেশি হয়। বালিয়াঘাট্টা উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র অধিক সময় ধরেই বন্ধ থাকে। সকাল বেলা ২ ঘন্টার জন্য উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি খোলা হয় বলে স্থানীয় লোকজন জানান। উপজেলার পাকড়ী, রিশিকুল, গোগ্রাম উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও একই চিত্র বিরাজ করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হোসেন আলী বলেন, উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল অফিসার পদায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করা হয়েছে। উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিত্সক ও ওষুধ সংকট শীঘ্রই কেটে যাবে।