হকি খেলোয়াড় সমিতির দাবি

চার খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করা ষড়যন্ত্র

জাতীয় হকি দলের চার খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ জানিয়ে হকি খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির দাবি সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি। সমিতির মতে এ সিদ্ধান্ত ষড়যন্ত্রমূলক। হকি খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি গতকাল বিকালে মাওলানা ভাসানী জাতীয় স্টেডিয়ামের বারান্দায় সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্সের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সমিতির কোষাধ্যক্ষ সাবেক খেলোয়াড় তাবিব এ নূর। তিনি বলেন, যে তদন্ত কমিটি তদন্ত করেছে তাদেরকেই বিতর্কিত মনে করে সমিতি। খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে এমন ঘটনায় আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ জাতীয় দলের সহকারি কোচের দায়িত্বে থাকা মাহবুব হারুনকে জাতীয় দল থেকে অব্যহতি দেয়া প্রসঙ্গে তাবিব বলেন, মাহবুব হারুন একজন সফলতম কোচ। তাকে দুঃখজনকভাবে বিদায় করা হয়েছে।’ খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স বলছেন, ‘এটা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করা হয়েছে। সভাপতির কাছে আমরা এর সুষ্ঠ তদন্ত চাই। উনাকে (সভাপতি) সঠিক তথ্য দেয়া হচ্ছে না।’ প্রিন্স বলছেন সিনিয়র অনেক সাবেক খেলোয়াড় আছেন। তাদের নিয়ে ফেডারেশন সভাপতি যদি আলোচনায় বসেন তাহলে সঙ্কট দূর করা সম্ভব।’ তার মতে এক দিকে খেলোয়াড় দলবদলের ঘোষণা দিচ্ছে আবার অন্য দিকে সাসপেন্ড করছে এ কেমন কথা।’ খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার পেছনে পাঁচজনকে দায়ি করেছে খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি। তারা হলেন ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ, সহ সভাপতি আব্দুর রশিদ, সদস্য ইউসুফ আলী, মাহবুব এহসান রানা এবং মামুনূর রশিদ। খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির বক্তব্যের পর কথা বলেন জাতীয় দলের গোলকিপার অভিযুক্ত জাহিদ। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় এশিয়া কাপে খেলোয়াড়সহ ১৮ জন ছিলাম। সেখানে আমরা কেউ ভালো খেলিনি। অথচ শাস্তি দেয়া হলো চারজনকে। আমরা জাতীয় দল থেকে কিছুই পাই না। এটা সবাই জানেন। ঘরোয়া হকিতে আমরা খেলি। ঘরোয়া হকিতে আমাদের উপর আঘাত করা হয়েছে। আমরা খেলোয়াড় দলবদল চেয়েছিলাম বলেই আজ আমাদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তি। খেলোয়াড়দের দলবদলের দাবিটা যুক্তিসংগত বলায় জাতীয় দল থেকে হারুন ভাইকে (কোচ মাহবুব হারুন) সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এশিয়া কাপ হকিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত সোমবার হকি ফেডারেশনের সভায় জাহিদ, কামরুজ্জামান রানা, রাসেল মাহমুদ জিমি এবং ইমরান হাসান পিন্টুকে বিভিন্ন মেয়াদে জাতীয় দল এবং ঘরোয়া হকি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। জাতীয় দল থেকে তিন বছর এবং ঘরোয়া হকি থেকে দুই বছর নিষিদ্ধ দেশের তারকা খেলোয়াড় জিমি বলেন, ‘শোকজে ১১টি কারণ দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ঘরোয়া হকির ব্যাপারে কিছু উল্লেখ ছিল না। তারপরও ঘরোয়া হকিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’ কোচের সমালোচনা করে জিমি বলেন, ‘বলা হয়েছে এশিয়া কাপে খেলতে নেমে ঠিক মতো বল দেইনি। সেখানে তো পাকিস্তানী কোচ ছিলেন। উনি কেন তখন আমাকে ধরলেন না। এতো হাই প্রোফাইল কোচ ছিলেন। উনি কেন আমার ভুল না ধরিয়ে দিয়ে ঢাকায় এসে রিপোর্ট দিলেন। দলের সাথে কোচ ছিলেন ভুল ভ্রান্তি যেন না হয়। তখন উনি সেখানে কী করেছেন।’ জিমি আরো বলেন, আসলে দলবদলের জন্য আন্দোলন করেছি বলেই এতো কিছু। যাদেরকে এই কমিটি নিষিদ্ধ করেছে তাদের সবাই মোহামেডানের খেলোয়াড়, এখানেও ষড়যন্ত্র।’ জিমির মতো একই শাস্তি পাওয়া ইমরান হাসান পিন্টু বলেন, ‘এশিয়া কাপে নেয়া হয়নি শেখ নান্নুর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে, বাদ দেয়া হয়েছিল সারোয়ারকে। কারণ তারা মোহামেডানের। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মোহামেডানে যোগ দেয়া আসাদুজ্জামান চন্দন, মোহামেডানের আশিকুজ্জামান, সামসুদ্দিন তুহিনকে ৫ বছর করে, মোহামেডানের ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্সকে ১০ বছর নিষিদ্ধ করে ফেডারেশন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়বক রাসেল খান বাপ্পীকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। সব কিছুর কারণ একটাই আমরা খেলোয়াড়দের পক্ষে দলবদলের দাবী করে কথা বলেছিলাম।’