ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা

বিডিআর বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত এই মামলাটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা (ফৌজদারি আদালতে)। দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রেও পৃথিবীর সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই হত্যা মামলার রায়ে ফাঁসির হুকুম হয়েছে ১৫২ জনের। কোন একটি মামলায় এত অধিক সংখ্যক ফাঁসির কোন নজির আর নেই। তবে এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাবেন দণ্ডপ্রাপ্তরা। হাইকোর্টের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণ বেঞ্চে এই মামলার আপিলের শুনানি হবে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআরদের বিদ্রোহে পিলখানার সদর দপ্তরে সংঘটিত হয়েছিল এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। এ ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। বিডিআর বিদ্রোহের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। তদন্তের পর হত্যা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি পৃথক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে সিআইডি। এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলাটি এখনো বিচারাধীন। এছাড়া বেশ কিছু বিভাগীয় মামলা হয়। এসব মামলায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি বিডিআর সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুত করা হয়। হত্যা মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৮২৬ জন। পরে তদন্তে আরো ২৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫২ জন। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। এই মামলার নথিও ৮৭ হাজার পৃষ্ঠার। আসামিদের মধ্যে বিডিআর জওয়ান আছেন ৭৮২ জন। বেসামরিক সদস্য আছেন ২৩ জন। এরমধ্যে ২০ জন এখনো পলাতক। জামিনে আছেন ১৩ জন। জামিনে থাকা ১৩ জনের মধ্যে ৩ জন গতকাল রায় প্রদানের সময় হাজির হননি। গতকাল মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে ১৫২ জনকে। যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে ১৬১ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন ২৬২ জন। শাস্তিদানের ক্ষেত্রেও এ সংখ্যা পৃথিবীর সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তবে আসামিদের আপিলের সুযোগ রয়েছে। বিচারক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, রায়ে ভুল হতে পারে। এটি কোন চূড়ান্ত রায় নয়। আপনারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাবেন। কোন ফৌজদারি আদালতে কারো ফাঁসি হলে ওই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক দেয়া এই চিঠিতে ফাঁসির রায়ের অংশ বিশেষ তুলে ধরে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার আদেশ হলো। তাই হাইকোর্টের সদয় অনুমোদনের জন্য মামলার কাগজপত্র, সিডি, মূল নথি ও যাবতীয় প্রসিডিংস পেশ করা হলো। এরপর শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সাত দিনের এবং যাবজ্জীবনসহ অন্য দণ্ডপ্রাপ্তরা রায়ের কপি প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করবেন। পেপার বুক প্রস্তুতের পরই আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসবে।