‘আমার শাকিল এখন শান্তিতে ঘুমাবে’

ছেলে ও ছেলের বউকে হারানোর পর একটি দিনও শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি সৈয়দা মনিকা খাতুন। দিন-রাত প্রার্থনা করেছেন প্রিয় সন্তান ও তার স্ত্রীর খুনিদের বিচার যেন দেখে যেতে পারেন। আর দোয়া করেছেন, আর যেন কোন মা তার মত সন্তান হারা না হন। সৈয়দা মনিকা খাতুনের প্রার্থনা মঞ্জুর হয়েছে। ছেলে ও ছেলের বউয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসির আদেশ শুনে যেতে পেরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান যখন রায় ঘোষণা করছিলেন তখন ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নিজ বাড়িতে ছিলেন সৈয়দা মনিকা খাতুন। রায় শুনে মনে হল তার বুক থেকে যেন একটি বড় পাথর সরে গেল। এই সৈয়দা মনিকা খাতুন হচ্ছেন মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের মা। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় যে সশস্ত্র বিডিআর বিদ্রোহ হয়েছিল সেই বিডিআরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। নিহত ৫৭ কর্মকর্তার মধ্যে তিনিও একজন। রায় ঘোষণার পর মোবাইল ফোনে সৈয়দা মনিকা খাতুনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা শাকিল ও আমার বউটার হত্যাকারীদের রায় শোনার জন্য আমি পৌনে পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছি। আজ আমার প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে।’ কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মারা যাওয়ার ১৫ মিনিট আগে শাকিল আমার কাছে ফোন করেছিল। বলেছিল, ‘মা আমি খুব বিপদে আছি, আমার জন্য দোয়া করিও।’ তার সাথে এটাই আমার শেষ কথা। এটাই যে ছেলের সাথে আমার শেষ কথা হবে মা হয়েও আমি তা বুঝতে পারিনি। আমি আপেক্ষা করছিলাম কখন ও আবার আমাকে ফোন করবে, মা বলে ডাকবে। সৈয়দা মনিকা খাতুন বলেন, ওর ফোন পাওয়ার পর আমার ছোট ছেলে শফিকসহ আত্মীয়-স্বজনদেরকে বলি ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ওদেরকে বলি শাকিলের অবস্থা আমাকে জানাতে। তারা অনেকবার ফোন করেও ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। ফোনে রিং হলেও শাকিল ফোন রিসিভ করেনি। তখনই আমি বুঝে গেছি আমার ছেলে আর কোন দিন মা বলে ডাকবে না। রায়ে আমার শাকিলের আত্মা এখন শান্তি পাবে। এখন শান্তিতে ঘুমাবে। আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরজু জানান, রায় ঘোষণার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের নিজ বাড়িতে ছিলেন সৈয়দা মনিকা খাতুন। রায় শুনে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। মনিকা খাতুন বলেন, শাকিল ঢাকায় থাকলেও সারাক্ষণ ঠিকই খবর রাখতেন আমার। মৃত্যুর এক বছর আগে ছোট ভাইয়ের বিয়েতে বাড়ি এসেছিল ও। শাকিলের মৃত্যুর পর ওর ছেলে- মেয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছে। তারপর তারা লন্ডন চলে যায়। সেখানে তারা তাদের নানু ও খালাদের সঙ্গে থাকে। সৈয়দা মনিকা খাতুন জানান, লন্ডন যাওয়ার পর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।