প্রতিভাময়ীর গল্প
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৭
বিজ্ঞাপন মুখ
বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে গ্রামীণ ফোনের ইমারজেন্সি ব্যালেন্সের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র। এই বিজ্ঞাপনচিত্রে চিত্রতারকা অনন্ত জলিলের বিপরীতে পারফর্ম করেছেন লাক্স তারকা টয়া। এই বিজ্ঞাপনচিত্রের গল্প আর তার ভবিষ্যতের ভাবনার কথা জানাচ্ছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
লাক্স আনন্দধারা ফটোজেনিক অপি করিমের দারুণ ভক্ত তিনি। ছোট থেকেই মনের ভেতর স্বপ্ন আঁকেন বড় হয়ে অপি করিমের মতো সুপারস্টার হতে হবে। তাই ওই সময়েই নাচের সাথে তার যুক্ত হওয়া। এরপর গানের সাথে সখ্যতা। কিন্তু পড়াশোনার চাপে কিছুদিন পর এগুলোতে আর সময় দিতে পারছিলেন না টয়া। তবে মনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে ২০১০ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতায় নাম লেখান টয়া। প্রথমে সে কথা বাসার কাউকে না জানালেও পরে মাকে ও বোনকে জানালে তারা হেসেই উড়িয়ে দেন। কিন্তু অডিশনের দিন অনুমতি নিতে গেলে বাঁধ সাধেন তার বাবা। পরে মা চাপাচাপি করলে বাবা তাকে যেতে দেন। টয়াই প্রথম প্রতিযোগী যিনি প্রথম অডিশনের দিন প্রথম ইয়েস কার্ড পেয়েছিলেন। এরপর অবশ্য টয়া বাসার সবার কাছ থেকে অনেক উত্সাহ পেয়েছিলেন। নিজের যোগ্যতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে ওই প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। এর পরের গল্পটা সবারই জানা। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে গ্রামীণ ফোনের ইমারজেন্সি ব্যালেন্সের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র। এই বিজ্ঞাপনচিত্রে চিত্রতারকা অনন্ত জলিলের বিপরীতে পারফর্ম করেছেন লাক্স তারকা টয়া। বিজ্ঞাপনচিত্রে দেখা যায়, ফিল্মি স্টাইলে গাড়ি থেকে নেমে বহুতল ভবনের লিফটে ওঠেন অনন্ত। সেখানে আগেই আরেকটি মেয়ে ছিল। অনন্তকে দেখে মেয়েটি ভীষণ অবাক এবং অসম্ভব রকম খুশি হয়। লিফট থেকে নামতে না নামতেই মেয়েটি তার বান্ধবীকে ফোন করে বলে, ‘জানিস আজকে আমার সাথে কার দেখা হয়েছিল?’ ওপাশ থেকে প্রশ্ন আসে ‘কে?’ এরপর উত্তর দিতে গিয়ে ফোনের ব্যালেন্স শেষ হয়ে যায়। অনন্তর নাম বান্ধবীকে বলা আর সম্ভব হয় না। কিন্তু ওই যে, অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তর কাজ! এখানেই তো তার কারিশমা। সাথে সাথে অনন্ত হাজির। তিনি ফোনটা চেয়ে নিয়ে তাতে কয়েকটি প্রেস করে গ্রামীণফোনের ৫ টাকা ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এনে দেন। আর তা দেখে মেয়েটি বলে ‘এ তো অসম্ভব!’ সাথে সাথে অনন্ত বলে ওঠেন, ‘অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তর কাজ!’ এর পরের দৃশ্যে দেখা যায়, অনন্ত সেই বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আরেকটি বিল্ডিংয়ের ছাদে গিয়ে পড়েন। তার পায়ের তলা থেকে আগুনের ফুলকি বের হয়। এরপর ফাইট! অতঃপর কাট। পুরো বিজ্ঞাপনটি দেখে দর্শকরা অনেক মজা পাচ্ছেন। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? জবাবে টয়া বলেন, ‘যখনই শুনতে পেলাম বিজ্ঞাপনটিতে অনন্ত জলিল থাকবেন, তখন মনে মনে কাজটি যাতে আমি করতে পারি তার জন্য দোয়া করছিলাম। আর কাজটি করতে গিয়ে অনেক মজা করেছিলাম।’ মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় এই বিজ্ঞাপনটিত্র প্রচারের পর থেকে টয়া সবারই প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার ভাষ্যে, ‘এই বিজ্ঞাপনচিত্রটি আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের। এটি প্রচারের পর থেকে বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অনেক প্রশংসা পাচ্ছি। আর এই বিজ্ঞাপনে কাজের অভিজ্ঞতার ভালো। এজন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ এর আগে টয়া অভিনীত আরও বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন প্রচার হয়। এরমধ্যে আফসানা মিমির পরিচালনায় ‘পৌষ ফাল্গুনের পালা’, রুমানা রশীদ ঈশিতার পরিচালনায় ‘অদেখা মেঘের কাব্য’, রায়হান খানের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধের গল্পে নির্মিত ‘আত্মসাত্’, ওয়াহিদ আনামের পরিচালনায় ‘ভার্সিটি’, এজাজ মুন্নার পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘জেনারেশন নেক্সট’ উল্লেখযোগ্য। তারমধ্যে ‘পৌষ ফাল্গুনের পালা’ ধারাবাহিকে জুলি চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন টয়া। বর্তমানে এসএ টিভিতে প্রচার হচ্ছে টয়া অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘আগুন পোকা’। সেইসাথে অভিনয় করছেন বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক ও এক খণ্ডের নাটকে। তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন একজন ভালো অভিনেত্রী হওয়ার। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রসঙ্গে টয়া বলেন, ‘ইচ্ছে অবশ্যই আছে। তবে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই। ভালো গল্প ও পরিচালকের সাথে কাজ করার অফার পেলে সানন্দেই তা গ্রহণ করব। কারণ চলচ্চিত্র একজন অভিনয়শিল্পীকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখে।’